News Flash

  • Home
  • দিনের খবর
  • দলের ভিতরের ‘বিশ্বাসঘাতকদের’ চিহ্নিত করতেই তৃণমূলের হার প্রয়োজন ছিল: কুণাল ঘোষ
Image

দলের ভিতরের ‘বিশ্বাসঘাতকদের’ চিহ্নিত করতেই তৃণমূলের হার প্রয়োজন ছিল: কুণাল ঘোষ

কলকাতা, ২৯ জুন (আইএএনএস): সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি দলের অন্দরে লুকিয়ে থাকা ‘বিশ্বাসঘাতকদের’ চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করলেন তৃণমূল বিধায়ক ও দলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

সোমবার সমাজমাধ্যমে করা এক পোস্টে, বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিধানসভা দলের ‘বিদ্রোহী সংখ্যাগরিষ্ঠ’ গোষ্ঠীকে পরোক্ষে নিশানা করে কুণাল ঘোষ বলেন, এই পরাজয় না হলে দলের ভিতরে থাকা সুযোগসন্ধানী ও বিশ্বাসঘাতকদের প্রকৃত চেহারা সামনে আসত না।

তিনি লেখেন, “৪ মে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পরাজয়ে আমি খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আমার ব্যক্তিগত জয়ও আমাকে বিশেষ আনন্দ দেয়নি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, যা হয়েছে, ভালোর জন্যই হয়েছে।”

এরপর তিনি ব্যাখ্যা করেন কেন এখন তাঁর এমন মনে হচ্ছে।

কুণাল ঘোষের দাবি, তৃণমূল জিতলে এই ‘বিশ্বাসঘাতকরা’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চারপাশে সমর্থকের মুখোশ পরে ঘুরে বেড়াতেন।

তাঁর কথায়, “সুযোগসন্ধানীরা বন্ধু সেজে আমাদের সঙ্গে মিশে থাকত। এখন নিজেদের বাঁচাতে সাধু সাজার চেষ্টা করা কিছু চোর আরও বেশি লুটপাট চালাত। দলের কিছু নেতার ঔদ্ধত্য আরও বেড়ে যেত। দলে ঢুকে পড়া কিছু অপরাধী বিরোধীদের পাশাপাশি তৃণমূলের একাংশকেও নিপীড়ন করত।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “কিছু অরাজনৈতিক সেলিব্রিটি অকারণে রাজনৈতিক মঞ্চে জায়গা পেতেন এবং জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ নিতেন। পুলিশ, আমলাতন্ত্র, বুদ্ধিজীবী, শিল্পপতি ও আধা-বুদ্ধিজীবীদের একাংশও নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভিন্ন মুখোশ পরে থাকতেন।”

কুণাল ঘোষের মতে, দলের এই ‘মুখোশধারী’ গোষ্ঠীগুলির বাড়াবাড়ির কারণে প্রকৃত তৃণমূল কর্মী, সংগঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা গুরুত্বহীন হয়ে পড়তেন এবং দলের মধ্যে দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো।

তিনি লেখেন, “এই নির্বাচনের ফল আমাদের ক্ষমতার বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনাও পরিষ্কার করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের প্রকৃত ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরাই এখন লড়াই চালিয়ে যাবেন।”

তাঁর আরও দাবি, “দলের গায়ে জমে থাকা অতিরিক্ত মেদ ঝরতে শুরু করেছে। আপাতদৃষ্টিতে সময়টা কঠিন হলেও এই পরীক্ষার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের জন্য দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।”

পোস্টের শেষে কুণাল ঘোষ লেখেন, “ক্ষমতাকেন্দ্রিক সুযোগসন্ধানী রাজনৈতিক স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস লাগে। মানুষ সবই দেখছেন। শেষ কথা বলবেন তাঁরাই।”

Releated Posts

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বাণিজ্য বিঘ্নে আইএমইসি এখন আরও জরুরি: রিপোর্ট

নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর…

ByByTaniya Chakraborty Aug 14, 2026

রাহুলের বিদেশনীতি নিয়ে কটাক্ষ, পাল্টা আক্রমণে নাড্ডা

নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতি নিয়ে কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর কটাক্ষের…

ByByTaniya Chakraborty Aug 14, 2026

চামোলিতে বিপর্যস্ত সুড়ঙ্গে উদ্ধারকাজ পরিদর্শন মুখ্যমন্ত্রী ধামির

দেহরাদুন, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় বিপর্যস্ত সুড়ঙ্গে চলা উদ্ধার ও ত্রাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর…

ByByTaniya Chakraborty Aug 14, 2026

গ্রেফতার পাকিস্তানি গুপ্তচরের নেপাল-ভিত্তিক পাঁচ সহযোগীর নাম পেল বেঙ্গল এসটিএফ

কলকাতা, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে গ্রেফতার…

ByByTaniya Chakraborty Aug 14, 2026
Scroll to Top