গুয়াহাটি, ২৯ জুন (আইএএনএস): টানা বৃষ্টির জেরে অসমে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (এএসডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, বন্যার প্রথম দফায় ইতিমধ্যেই ছয়টি জেলায় ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি ধেমাজি জেলায় একটি রেলসেতুর অংশ ভেঙে পড়ায় রেল চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
এএসডিএমএ-র বুলেটিন অনুযায়ী, ধেমাজি, নলবাড়ি, ডিব্রুগড়, চিরাং, লখিমপুর এবং কোকরাঝাড়— এই ছয় জেলায় মোট ২২,১২৪ জন বন্যাকবলিত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ধেমাজি জেলা। সেখানে ১৫,৪৮৩ জন মানুষ বন্যার জলে দুর্ভোগে পড়েছেন। টানা বর্ষণের ফলে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার জলে ৯৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ১,৬৯০ হেক্টর কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে হাজার হাজার কৃষকের জীবিকা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
এএসডিএমএ জানিয়েছে, শিবসাগর জেলার নাংলামুরাঘাটে ডিসাং নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে আরও জল ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যার প্রভাবে ৪৮,১৯৯টি গবাদি পশুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে, ধেমাজি জেলার সিমেন নদীর উপর একটি রেলসেতুর অংশ ভারী বৃষ্টি ও নদীভাঙনের জেরে আংশিক ভেঙে পড়েছে। এর ফলে ওই এলাকায় রেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (এনএফআর) মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (সিপিআরও) জানিয়েছেন, ধেমাজি ও সংলগ্ন এলাকায় ১১০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় প্রবল বন্যা ও নদীভাঙন শুরু হয়, যার জেরে সেতুর একটি পিয়ারের নীচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আর্চিপাথার ও সিমেন চাপরি স্টেশনের মধ্যে ট্রেন চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৬৫ সালে নির্মিত এই সেতুটি পরে ব্রডগেজ লাইনে রূপান্তর করা হয়েছিল এবং এতদিন পর্যন্ত সেটি নিরাপদ অবস্থাতেই ছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টির ফলে নদীর পাড়ের বড় অংশ ভেঙে যাওয়ায় সেতুর একটি পিয়ারের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে।
অসম এবং সংলগ্ন অরুণাচল প্রদেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। সব জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



















