বেঙ্গালুরু, ২৯ জুন (আইএএনএস): আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেছেন, অযোধ্যার প্রথম করসেবার সময় তৈরি হওয়া ভক্তি, আত্মত্যাগ ও সম্মিলিত দায়বদ্ধতার পরিবেশ বহু মানুষের জীবনে গভীর পরিবর্তন এনেছিল। তাঁর দাবি, কোনও আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বা উপদেশ ছাড়াই সেই পরিবেশ মানুষের চিন্তাভাবনা ও জীবনধারা বদলে দিতে সক্ষম হয়েছিল।
বেঙ্গালুরুর আর্ট অব লিভিং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল আয়োজিত তিন দিনের ‘এনইপি ২০২০-এর বাস্তবায়ন: ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থার একীকরণ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত এই মন্তব্য করেন।
তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, প্রথম কারসেবার পর তিনি আরএসএসের প্রচারক হিসেবে একটি তহশিলে গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় কর্মীরা তাঁকে এক পাংচার সারাইয়ের দোকানে কর্মরত এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করান।
ভাগবতের দাবি, ওই ব্যক্তি আগে পকেটমার ছিলেন। কারসেবকদের ভিড় দেখে তিনি চুরি করার উদ্দেশ্যে অযোধ্যায় গিয়েছিলেন। সেই কারণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সঙ্গে নিয়ে যান।
আরএসএস প্রধানের কথায়, অযোধ্যায় পৌঁছে তিনি তাঁর চুরির সরঞ্জাম সরযূ নদীতে ফেলে দেন, স্নান করেন এবং রামলালার দর্শন করার পর সিদ্ধান্ত নেন যে আর কখনও চুরি করবেন না। পরে তিনি স্থানীয় কর্মীদের কাছে একটি ছোটখাটো কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আবেদন জানান, যাতে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।
ভাগবত বলেন, “কেউ তাঁকে কোনও বক্তৃতা দেননি বা আরএসএসের মতাদর্শ শেখাননি। কিন্তু কারসেবকদের নিষ্ঠা, দীর্ঘ পথ হেঁটে আসা, সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগের পরিবেশ তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং তাঁর জীবনে পরিবর্তন এনেছিল।”
আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করে ভাগবত বলেন, আরএসএসের এক কর্মী প্রথমে মনে করতেন, সমাজ বা দেশের জন্য কাজ করার আগে নিজের কর্মজীবন গড়ে তোলা উচিত। পরে প্রয়াগরাজে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।
ভাগবতের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই কর্মী তাঁকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ত্রিবেণী সঙ্গমে নিজের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রতীকীভাবে বিসর্জন দিয়েছেন। এরপর থেকে আগে সংগঠনের কাজ এবং পরে নিজের কর্মজীবন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
এই প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, “এমন পরিবর্তন কোনও বক্তৃতার মাধ্যমে হয়নি। বহু মানুষের আচরণ ও আত্মনিবেদনের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, সেটাই এই পরিবর্তনের কারণ।”
নিজের বক্তব্যে লক্ষ্যপূরণে দৃঢ় সংকল্পের গুরুত্বও তুলে ধরেন আরএসএস প্রধান। তিনি বলেন, অনেক সময় অসম্ভব বলে মনে হওয়া কাজও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, “একসময় কেউ ভাবেনি রাম মন্দির নির্মিত হবে, কিন্তু হয়েছে। জরুরি অবস্থার সময় অনেকেই মনে করেছিলেন দেশে গণতন্ত্র শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু জরুরি অবস্থা উঠে যায়। আবার অনেকে ভাবেননি ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল হবে, কিন্তু সেটিও হয়েছে।”
বক্তব্যের শেষে তিনি সকলকে জীবনের লক্ষ্য পূরণে অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মানুষের মনে এই সংকল্প থাকা উচিত— যা-ই হোক, আমাকে এই কাজটি করতেই হবে; এটাই আমার জীবনের লক্ষ্য।”



















