ইটানগর, ২৮ জুন (আইএএনএস): প্রবল বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে অরুণাচল প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ কিমিন-পোটিন সড়ক পুনরায় যান চলাচলের উপযোগী করে তুলেছে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও)। অন্যদিকে, রাজ্যের কেয়ি পানিয়র জেলায় আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দু’জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রতিরক্ষা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহেন্দ্র রাওয়াত জানান, টানা বর্ষণের জেরে কেয়ি পানিয়র ও পাপুম পারে জেলায় একাধিক ভূমিধস এবং রাস্তার বড় অংশ ধসে পড়ে। প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কিমিন-পোটিন সড়কের বিভিন্ন অংশ কাদা, পাথর ও উপড়ে পড়া গাছে ঢেকে যায় এবং বহু জায়গায় রাস্তা ভেসে যায়।
এর ফলে পোটিন, ইয়াজালি, ইয়াচুলি, জোরাম ও জিরো-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ, উদ্ধারকারী দল এবং নাহারলাগুনের টোমো রিবা ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল সায়েন্সেস (টিআরআইএইচএমএস)-এ পৌঁছনোও ব্যাহত হয়।
এদিকে, জাতীয় সড়ক-১৩-ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিমিন-পোটিন সড়ক দ্রুত চালু করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।
প্রশাসনের অনুরোধে বিআরও-র প্রজেক্ট অরুণাঙ্ক-এর অধীন ৭৫৬ বর্ডার রোডস টাস্ক ফোর্স (বিআরটিএফ) প্রায় ৮০ জন কর্মী এবং ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধার ও পুনর্গঠনের কাজে নামে।
প্রবল বৃষ্টি, অস্থিতিশীল পাহাড়ি ঢাল এবং বারবার ভূমিধস সত্ত্বেও বিআরও কর্মীরা দিনরাত কাজ করে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে শনিবার গভীর রাতে সড়কটি পুনরায় যান চলাচলের জন্য খুলে দেন।
প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জানান, বর্তমানে কিমিন-পোটিন সড়ককে দ্বি-লেনে উন্নীত করার কাজও চলছে, যা ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির স্থায়িত্ব ও বহনক্ষমতা আরও বাড়াবে।
অন্যদিকে, ২৩ জুন থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণজনিত আকস্মিক বন্যায় কেয়ি পানিয়র জেলার এনইইপিসিও কলোনি এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে শনিবার ৩০ বছর বয়সি এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছে। এর ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দু’জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ) এবং কেয়ি পানিয়র পুলিশের যৌথ দল নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের পরিচয়— এলেশ মারাক (১৩), তাও আনজিনা (৪৬) এবং সৌরভ কুমার (৪৮)।
২৫ জুন ভারতীয় বায়ুসেনার একটি হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী, একটি উদ্ধারকারী নৌকা এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ)-এর কর্মীদের পৌঁছে দেওয়া হয়।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রবল বৃষ্টিতে নির্মীয়মাণ একটি রিটেনিং ওয়াল ভেঙে পড়ায় এনইইপিসিও প্রকল্প কলোনি ও আশপাশের নিচু এলাকায় ব্যাপক জল জমে যায়। আকস্মিক বন্যায় প্রায় ২০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।



















