নয়াদিল্লি, ২৮ জুন (আইএএনএস): মেঘালয়ের বিখ্যাত জীবন্ত শিকড়ের সেতু-কে মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের এক অনন্য নিদর্শন বলে উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৫তম পর্বে তিনি এই ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান জানান এবং জানান, এই প্রাকৃতিক স্থাপত্যকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ভারত আবেদন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেঘালয় শুধু তার মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বা মেঘের জন্যই নয়, সেখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার জন্যও পরিচিত।
তিনি বলেন, জীবন্ত শিকড়ের সেতুগুলি ভারতের অন্যতম অসাধারণ প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সাধারণ সেতুর মতো এগুলি নির্মিত হয় না। বরং রাবার গাছের শিকড়কে বহু বছর ধরে যত্নের সঙ্গে নদী বা ঝরনার উপর দিয়ে পরিচালিত করে এই সেতু তৈরি করা হয়।
মোদী বলেন, “এগুলি জীবন্ত সেতু, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এগুলি মেঘালয়ের মানুষের সৃজনশীলতা, ধৈর্য এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, এই সেতুগুলি প্রমাণ করে যে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করলে মানুষ কী অসাধারণ সৃষ্টি করতে পারে। এগুলি ভারতের অমূল্য ঐতিহ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জীবন্ত শিকড়ের সেতুগুলিকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ভারত ইতিমধ্যেই আবেদন করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই সেতুগুলির আশপাশের ভঙ্গুর পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় মানুষই নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগে এই সেতুগুলির কোনও পূর্ণাঙ্গ নথি ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দারাই এগুলির সন্ধান, তালিকাভুক্তকরণ এবং গণনার কাজ শুরু করেন।
বর্তমানে স্থানীয় সম্প্রদায় ১২০টিরও বেশি জীবন্ত শিকড়ের সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ করছে। প্রতিবছর বিশেষ দল সেতুগুলির অবস্থা পরীক্ষা করে এবং আশপাশের পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য নার্সারিও গড়ে তোলা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে পদ্ম সম্মানপ্রাপ্ত হ্যালি ওয়ার-এর বিশেষ প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জীবন্ত শিকড়ের সেতু সংরক্ষণে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টাকে তিনি দেশের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী যাঁরা এই সেতুগুলি ঘুরে দেখেছেন, তাঁদের সামাজিক মাধ্যমে ছবি ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এর ফলে আরও বেশি মানুষ মেঘালয়ের এই অনন্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে ও আগ্রহী হতে পারবেন।



















