নয়াদিল্লি, ২৮ জুন (আইএএনএস): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির যুগে উদ্ভাবনের পাশাপাশি ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৫তম পর্বে তিনি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি প্রযুক্তির যুগ। প্রতিদিন নতুন গবেষণা হচ্ছে, নতুন নতুন এআই উদ্ভাবন সামনে আসছে। এই সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল—প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে কীভাবে মানুষের সৃজনশীলতাকে রক্ষা করা যায় এবং একই সঙ্গে নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা যায়?”
তিনি বলেন, এই প্রশ্নের একটি কার্যকর উত্তর খুঁজে পেয়েছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়।
মোদী জানান, “হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আজ নতুন রূপে ভারতের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছে। দু’বছর আগে নতুন ক্যাম্পাস দেশবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের প্রাচীন শাস্ত্রার্থ-এর ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শাস্ত্রার্থ শুধুমাত্র নিজের মত প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং এটি যুক্তি, তথ্য ও গভীর চিন্তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ আলোচনা ও বিতর্কের প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে অন্যের মতামত ধৈর্য সহকারে শোনা ও বোঝার শিক্ষাও পাওয়া যায়।
তিনি জানান, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এই ঐতিহ্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই বিদেশি ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক সময়ের সেতুবন্ধন গড়ে তোলার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।”
এছাড়া তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানোর পাশাপাশি ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখার আরেকটি উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, দিল্লির কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সে বি.টেক কোর্স চালু করতে যাচ্ছে।
মোদীর মতে, এই পদক্ষেপ আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানভাণ্ডারের সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এর মাধ্যমে ভারতীয় ভাষার জন্য নতুন এআই-ভিত্তিক সরঞ্জাম তৈরি করা সহজ হবে এবং প্রাচীন গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপির ডিজিটাল সংরক্ষণ ও নথিভুক্তিকরণের কাজ আরও দ্রুত এগোবে।
তিনি এই উদ্যোগের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়কে শুভেচ্ছাও জানান।



















