নয়াদিল্লি, ২৮ জুন (আইএএনএস): কেন্দ্রের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি পরিবারকে আর্থিক নিরাপত্তার ‘সুরক্ষাকবচ’ দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৫তম পর্বে তিনি এই প্রকল্পগুলির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে জন্মদিন, বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠান শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের আনন্দের উৎসব। মহারাষ্ট্রের নান্দেড় জেলার একটি পরিবার সেই আনন্দকে এমনভাবে ভাগ করে নিয়েছে, যা আজ সবার আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।”
তিনি জানান, নান্দেড়ের বহাদরপুরা গ্রামের পেঠকর পরিবার বাড়ির একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ৩,৫০০ গ্রামবাসীর জন্য দুর্ঘটনা বিমার ব্যবস্থা করে। প্রত্যেকের জন্য ১ লক্ষ টাকার বিমা সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।
মোদী বলেন, “এই উদ্যোগের পিছনের ভাবনাটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী। পরিবারটি উপলব্ধি করেছিল যে, দুর্ঘটনার পরে অনেক পরিবার মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে। সেই সময় সামান্য সাহায্যও বড় ভরসা হয়ে ওঠে।”
এরপর কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা-র কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরে মাত্র ২০ টাকা প্রিমিয়ামে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনা বিমার সুবিধা পাওয়া যায়।
তিনি জানান, “এখন পর্যন্ত ৫৮ কোটিরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৮ কোটি মহিলা। এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ৩,৭০০ কোটিরও বেশি টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।”
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা-র কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও ব্যক্তির অকালমৃত্যুর ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকার বিমা সুরক্ষা দেওয়া হয়।
মোদীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের বার্ষিক প্রিমিয়াম মাত্র ৪৩৬ টাকা, অর্থাৎ দৈনিক প্রায় দেড় টাকা। ইতিমধ্যেই ২৭ কোটিরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন। এর আওতায় দেশের প্রায় ১১ লক্ষ পরিবারকে মোট প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত বড়। কিন্তু এই সংখ্যার আড়ালে রয়েছে লক্ষ লক্ষ পরিবারের বাস্তব গল্প। কোথাও কোনও মা তাঁর সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, আবার কোথাও কোনও স্ত্রী সংসারের দায়িত্ব সামলানোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “অনেক সময় খুব সামান্য অর্থ এবং ছোট্ট একটি পদক্ষেপই বড় নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। একটি ছোট সিদ্ধান্তও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই এই প্রকল্পগুলির সম্পর্কে পরিবারের সকলকে জানাতে আমি দেশবাসীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি।”
























