নয়াদিল্লি, ২৮ জুন (আইএএনএস): বেসরকারি ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় যেতে ইচ্ছুক ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে কেন্দ্র। প্রয়োজনীয় সমস্ত ভ্রমণ নথি, বিশেষ করে চিনে প্রবেশের ভিসা ও অনুমতিপত্র হাতে পাওয়ার আগে যাত্রা শুরু না করার পরামর্শ দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি একাধিক ভারতীয় নাগরিক প্রয়োজনীয় চিনা ভিসা ও প্রবেশ অনুমতি ছাড়াই কৈলাস মানসসরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নেপালে আটকে পড়েছেন। তাঁদের অনেকেই বেসরকারি ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে সফরের ব্যবস্থা করেছিলেন। আটকে পড়া যাত্রীরা সাহায্যের জন্য বিদেশ মন্ত্রকের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরে প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যাবে— এমন ধারণা নিয়ে যাত্রা শুরু করা উচিত নয়।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, “সম্পূর্ণ যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় সব ভ্রমণ নথি সংগ্রহ না হওয়া পর্যন্ত ভারত থেকে যাত্রা শুরু না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিশ্চিত নথিপত্র ছাড়া বা পরে তা পাওয়ার আশায় যাত্রা শুরু করলে মাঝপথে আটকে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।”
এছাড়া যাত্রীদের বেসরকারি ট্যুর অপারেটরের নিবন্ধন ও অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে তবেই সফরের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই সতর্কবার্তার মধ্যেই খবর, কৈলাস মানসসরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া প্রায় ৫২ জন ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে নেপালের কাঠমান্ডুতে আটকে রয়েছেন এবং নিরাপদে পরবর্তী যাত্রা সম্পূর্ণ করতে জরুরি সহায়তা চাইছেন।
শনিবার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপি (এসপি)-র সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। তিনি বিদেশ মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনগুলিকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে আটকে পড়া ভারতীয়দের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আবেদন জানান।
হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং বন ধর্মাবলম্বীদের কাছে কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা অন্যতম পবিত্র তীর্থযাত্রা। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত এই যাত্রায় অংশ নেন। তবে এই তীর্থযাত্রার জন্য তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে প্রবেশের অনুমতিসহ চিনা কর্তৃপক্ষের একাধিক ছাড়পত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি বাধ্যতামূলক।
এদিকে, ২০২৬ সালের সরকারি কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। গত ২০ জুন প্রথম দলটি সিকিমের নাথু লা সীমান্ত দিয়ে চিনে প্রবেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের যাত্রার সূচনা করে।
























