আমদাবাদ, ২৭ জুন (আইএএনএস): গুজরাতে কুরিয়ারের মাধ্যমে মাদক পাচারচক্রের তদন্তে আরও ৩২৯.৫৫ গ্রাম মেফেড্রোন (এমডি) উদ্ধার করেছে আমদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এর ফলে এই মামলায় মোট উদ্ধার হওয়া সিন্থেটিক মাদকের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০১.১০ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭০.১১ লক্ষ টাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার অভিযুক্ত আসুরাম ওরফে অশোককুমার ভাদু (বিষ্ণোই) (৩২)-কে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এই নতুন তথ্য সামনে আসে। রাজস্থানের বালোত্রা জেলার বাসিন্দা ওই ব্যক্তিকে এর আগে মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ আইন (এনডিপিএস)-এর ৮(সি), ২২(সি) এবং ২৯ ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছিল।
গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে ৩৭১.৫৫ গ্রাম মেফেড্রোন উদ্ধার হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৭.১৫ লক্ষ টাকা। এটি আইনের নিরিখে বাণিজ্যিক পরিমাণের মাদক।
পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত জানান, ওঢাভ এলাকার এস.পি. রিং রোডের কাছে আদীনাথ নগরের যমুনা পার্ক সোসাইটিতে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৩২৯.৫৫ গ্রাম মেফেড্রোন, ৩৫ হাজার টাকা নগদ এবং পাচারচক্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুটি ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র, ২৩৯টি জিপ-লক প্যাকেট, একটি নোটবই, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, খাম, রুপোলি রঙের বাক্স তৈরির বোর্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, এটিএম কার্ড, পরিচয়পত্রের প্রতিলিপি এবং অন্যান্য প্যাকেজিং সামগ্রী।
সর্বশেষ উদ্ধার মিলিয়ে মামলায় মোট বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০.৪৬ লক্ষ টাকা।
ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডিসিপি অজিত রাজিয়ান জানান, এই মাদক রাজস্থান থেকে এনে আমদাবাদের বাপুনগর এলাকার কয়েকটি কুরিয়ার সংস্থার মাধ্যমে শুধু গুজরাত নয়, বেঙ্গালুরুর মতো অন্যান্য শহরেও অল্প অল্প করে পাঠানো হত।
তাঁর কথায়, “প্রতিটি পার্সেল পরীক্ষা করা সম্ভব নয়, এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছিল পাচারকারীরা।”
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা ফোন এবং মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কুরিয়ারের সাহায্যে মাদক সরবরাহ করত, যাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি কম থাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের উৎস, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সরবরাহ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
______



















