ওয়াশিংটন, ২৭ জুন (আইএএনএস): ভারতে দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর বলেছেন, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত মজবুত অবস্থানে রয়েছে। তাঁর মতে, এই সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক।
হোয়াইট হাউসে আইএএনএস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সার্জিও গর ভারত সফরের অভিজ্ঞতা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, এইচ-১বি ভিসা, জনগণের মধ্যে সম্পর্ক এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ভারতে গত ছয় মাসের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সফর করে তিনি ভারতের অসাধারণ বৈচিত্র্য ও বিপুল সম্ভাবনা প্রত্যক্ষ করেছেন। ফার্মাসিউটিক্যাল, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা-সহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভারত ও আমেরিকা একসঙ্গে কাজ করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতের বিভিন্ন শহর সফরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, জয়পুর-সহ একাধিক জায়গা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। তাঁর কথায়, “ভারতের বিশেষত্ব হল, অল্প দূরত্ব পরপরই ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে বৈচিত্র্য দেখা যায়। বিশ্বের খুব কম দেশেই এমন বৈচিত্র্য রয়েছে।”
ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে গর বলেন, “আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির সম্পর্ক সবসময়ই দৃঢ় ছিল। সংবাদমাধ্যমে নানা জল্পনা হলেও তাঁদের বন্ধুত্বে কোনও ভাটা পড়েনি। তাঁরা কথা বললেই ইতিবাচক অগ্রগতি হয়।”
ফ্রান্সে ট্রাম্প ও মোদির সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৈঠকটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এবং বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে গর জানান, এখনও কয়েকটি বিষয়ের ভাষাগত খসড়া চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর কথায়, “দেড় বছর ধরে এই চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। তুলনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দশক ধরে আলোচনা চলছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক না হলেও ট্রাম্প ভারত সফরে অত্যন্ত আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী মোদির আমন্ত্রণ তিনি গ্রহণ করেছেন এবং উপযুক্ত সময়ে সফর করবেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্ব সম্পর্কে গর বলেন, “তিনি অত্যন্ত গতিশীল, নিজে সবকিছু তদারকি করেন এবং দ্রুত ফল চান। এই দিক থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর অনেক মিল রয়েছে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ভারতকে সর্বোচ্চ সম্মান করেন। তিনি সবসময়ই প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে উল্লেখ করেন এবং ভারত সফরের স্মৃতি এখনও সযত্নে মনে রেখেছেন।”
এইচ-১বি ভিসা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ভিসা সংক্রান্ত কঠোরতা ভারতের বিরুদ্ধে নয়, বরং সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করার অংশ। তিনি জানান, ভারত এখনও বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত মার্কিন ভিসা মিশনের দেশ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে গর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে জ্বালানি রপ্তানি ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাঁর মতে, কোনও একটি উৎসের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করাই নিরাপদ কৌশল।
সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি বলেন, “এই ছয় মাস খুব দ্রুত কেটে গেছে। আমি ফলাফলমুখী কাজ করতে চাই। বাণিজ্য চুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। আগামী সপ্তাহেই আবার ভারতে ফিরছি।”
_______



















