লখনউ/অযোধ্যা, ২৬ জুন (আইএএনএস) : অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের কোটি কোটি টাকার অনুদান তছরুপের অভিযোগে তদন্তে বড় মোড় এল। শুক্রবার শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্ট সদস্য অনিল মিশ্র তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্ক এবং চলমান তদন্তের মধ্যেই তাঁদের এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।
এদিকে, ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্তকে আদালত ২৯ জুন পর্যন্ত তিন দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ব্যাংকের বর্তমান ও প্রাক্তন কয়েকজন আধিকারিকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে মন্দিরের অনুদানের অর্থ আত্মসাতের একটি চক্র সক্রিয় ছিল।
সূত্রের খবর, বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-র প্রাথমিক রিপোর্টে মন্দিরের অনুদান ও নগদ অর্থ পরিচালনায় একাধিক গুরুতর অনিয়মের কথা উঠে আসার পর নৈতিক দায় স্বীকার করে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেন। তদন্তে জবাবদিহির ক্ষেত্রে এটিকে প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পদত্যাগের আগে মন্দিরের সেবাকর্মী, নগদ অর্থ গণনার সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংককর্মী-সহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগ, তাঁরা যোগসাজশ করে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাৎ করতেন।
শুক্রবার অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ২৯ জুন পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন। তদন্তকারীরা শীঘ্রই তাঁদের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানাতে পারেন বলে সূত্রের খবর। এর মাধ্যমে অর্থের লেনদেনের পথ, সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র এবং অন্য সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা হবে।
গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তরা হলেন রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংককর্মী সুভাষ শ্রীবাস্তব। তদন্তকারীদের দাবি, প্রত্যেকেরই অনুদান তছরুপে নির্দিষ্ট ভূমিকা ছিল।
তদন্তে রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নুকে অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, তিনি একসময় চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক ছিলেন এবং মন্দির প্রশাসনের অভ্যন্তরে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই তিনি অনুদান ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।
যদিও এখনও পর্যন্ত পদত্যাগী ট্রাস্ট কর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মে সরাসরি জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবে তাঁদের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংককর্মী সুভাষ শ্রীবাস্তব, যিনি নগদ অর্থ গণনার দায়িত্বে ছিলেন, তিনি কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন এবং অর্থ সরিয়ে নেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় কয়েকজন অভিযুক্ত আরও কিছু বর্তমান ব্যাংক আধিকারিকের নামও তদন্তকারীদের জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরাও অনুদানের অর্থ আত্মসাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন।
রাম মন্দিরের অনুদানের নগদ অর্থ গণনা ও প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্ব ছিল স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (এসবিআই)। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ব্যাংকের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কোনও কারচুপি করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে কি না। প্রমাণ মিললে আরও কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের ইঙ্গিত।
পুলিশের অনুমান, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে এই চক্র সক্রিয় ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, নগদ অর্থের বান্ডিল প্রথমে মন্দির চত্বরে শৌচাগারের ভিতরে লুকিয়ে রাখা হত। পরে রাতের অন্ধকারে সেগুলি বাইরে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভাগ করে চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হত বলে অভিযোগ।
পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, আর্থিক লেনদেনের নথি এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।
উল্লেখ্য, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের অনুরোধে উত্তরপ্রদেশ সরকার গত ১৪ জুন তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করে। ওই এসআইটির প্রাথমিক রিপোর্টে অনুদান ব্যবস্থাপনায় একাধিক অনিয়মের কথা উঠে আসার পরই এফআইআর দায়ের এবং পরবর্তী গ্রেফতারির প্রক্রিয়া শুরু হয়।






















