কলকাতা, ২৬ জুন (আইএএনএস) : কলকাতার তারাতলায় গুদাম ধসের ঘটনায় উদ্ধারকাজে এবার সক্রিয়ভাবে যোগ দিল পূর্ব রেল (ইস্টার্ন রেলওয়ে)। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত ১৮ জন বর্তমানে রাজ্য পরিচালিত এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), কলকাতা পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এবার সেই অভিযানে জনবল ও বিশেষ সরঞ্জাম নিয়ে শামিল হয়েছে পূর্ব রেলও।
হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশন এবং লিলুয়া ওয়ার্কশপের বিশেষজ্ঞ কর্মীরা বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নাগাদ উদ্ধারকাজে নামেন। কংক্রিটের স্তম্ভ এবং ইস্পাতের মোচড়ানো বিম কেটে ধ্বংসস্তূপের ভিতরে এখনও কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে ব্যবহার করা হচ্ছে কোল্ড কাটার-সহ একাধিক অত্যাধুনিক যন্ত্র।
উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত কোল্ড কাটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই যন্ত্র দিয়ে কাটার সময় খুব কম বা একেবারেই তাপ উৎপন্ন হয় না। ফলে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কোনও অতিরিক্ত ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। রেল দুর্ঘটনায় উল্টে যাওয়া কোচ কেটে যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
পূর্ব রেলের এক মুখপাত্র জানান, ৭০ সদস্যের রেলের বিশেষ উদ্ধারকারী দল সময়ের সঙ্গে লড়াই করছে। তাঁদের হাতে রয়েছে ১০টি অক্সি-কাটার সেট, ছয়টি অ্যাব্রেসিভ কাটার এবং তিনটি প্লাজমা কাটিং ইউনিট-সহ অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া প্রত্যেককে উদ্ধার করাই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য।
উদ্ধারকর্মীদের কথায়, এই অভিযান এখন তাঁদের কাছে শুধুমাত্র দায়িত্ব নয়, একপ্রকার মিশনে পরিণত হয়েছে। শেষ ব্যক্তি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত, তাঁর অবস্থা যেমনই হোক না কেন, অভিযান চলবে।
এদিকে, ধ্বংসস্তূপের নীচে জীবিত কারও অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে এনডিআরএফ স্নিফার ডগ এবং ইনফ্রা-রেড প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। অন্যদিকে সেনাবাহিনী গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডারের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের নীচে সম্ভাব্য জীবনের সন্ধান চালাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ভেঙে পড়া গুদামটি তারাতলার কাছে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর (এসএমপি), কলকাতার মালিকানাধীন জমিতে একটি বেসরকারি সংস্থা নির্মাণ করছিল। ২০২৪ সালে সংস্থাটি ৩৫ বছরের জন্য জমিটি লিজ নিয়েছিল।
ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকার ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ পরিকল্পনায় অনুমোদন দেওয়ার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।























