কলকাতা, ২৬ জুন (আইএএনএস): দক্ষিণ কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি গুদামের ছাদ ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫-তে পৌঁছেছে। শুক্রবার কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
মৃত সর্বশেষ শ্রমিকের নাম মান্নু কুমার (১৯)। তিনি বিহারের মুঙ্গের জেলার বাসিন্দা। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার এসএসকেএম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, মৃত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। বাকি দু’জন পুরুষের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। মৃতদের সকলেই পুরুষ।
এদিকে, এসএসকেএম হাসপাতালে এখনও ১৮ জন আহতের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ এবং একজন মহিলা। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার তদন্তে গঠিত কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই পদ্ধতি অনুসরণের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় নির্মীয়মাণ গুদামে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ, গুদাম কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের উপস্থিতির কোনও নথি বা রেজিস্টার সংরক্ষণ করেনি। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকে আছেন কি না, সে বিষয়েও সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ওই গুদাম নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র এবং রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি গুদামটির নির্মাণ পরিকল্পনায় অনুমোদন দেওয়া হয় এবং সেই নথিতে ফিরহাদ হাকিম ও পরিকল্পনা যাচাইকারী কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের স্বাক্ষর রয়েছে।
























