নয়াদিল্লি, ২৫ জুন (আইএএনএস): মার্কিন ই-কমার্স সংস্থা অ্যামাজন আগামী ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে তাদের বিভিন্ন ব্যবসা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করতে মোট ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার সংস্থার সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন।
জ্যাসি ভারতের প্রতি অ্যামাজনের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ক্লাউড অবকাঠামো সম্প্রসারণে অতিরিক্ত ১৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।
এর ফলে ২০২৬-২০৩০ সময়কালে ভারতে এআই ও ক্লাউড অবকাঠামো উন্নয়নে অ্যামাজনের মোট পরিকল্পিত বিনিয়োগ ২১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে, যা দেশটিতে অন্যতম বৃহত্তম বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই বিনিয়োগের মাধ্যমে মুম্বই ও হায়দরাবাদে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস-এর ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর ফলে স্টার্টআপ, শিল্প সংস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি উন্নত এআই চিপ, পরিচালিত এআই পরিষেবা, নিরাপদ ক্লাউড প্রযুক্তি এবং আধুনিক ডেভেলপার টুল ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
অ্যান্ডি জ্যাসি বলেন, “এক দশকেরও বেশি সময় আগে আমরা ভারতে যাত্রা শুরু করি। তারপর থেকে গ্রাহক, বিক্রেতা, ডেভেলপার, স্টার্টআপ এবং শিল্প সংস্থাগুলিকে বিভিন্ন পরিষেবার মাধ্যমে সহায়তা করে আসছি। বিশেষ করে ই-কমার্স, এআই এবং ক্লাউড পরিষেবায় আমরা উল্লেখযোগ্য সাড়া পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতে আমাদের ব্যবসার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে শক্তিশালী চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে আগামী পাঁচ বছরে ৪৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘বিকশিত ভারত’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর স্বপ্ন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং ভারতের উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
জ্যাসি প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, অ্যামাজনের জন্য ভারতের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ই-কমার্স, এআই, ক্লাউড পরিষেবা, বিনোদনসহ একাধিক ক্ষেত্রে সংস্থাটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে অ্যামাজনের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৮৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে।
অ্যামাজন দাবি করেছে, ভারতে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে তারা ১ কোটি ২০ লক্ষ ক্ষুদ্র ব্যবসাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করেছে, ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ই-কমার্স রপ্তানি সম্ভব করেছে এবং প্রায় ২৮ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করেছে।
এছাড়া ১ কোটিরও বেশি ভারতীয়কে ক্লাউড প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে সংস্থার দাবি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অ্যামাজন ৩৮ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ৮০ বিলিয়ন ডলারের সামগ্রিক রপ্তানি, ১ কোটি ৫০ লক্ষ ক্ষুদ্র ব্যবসার কাছে এআই-এর সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং ৪০ লক্ষ সরকারি স্কুলের পড়ুয়াকে এআই শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।


















