নয়াদিল্লি, ২৫ জুন (আইএএনএস): ২০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা বিশেষ অনুমতি আবেদন (এসএলপি) সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করে নিলেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি বি.ভি. নাগারথনা এবং জয়মাল্য বাগচী-র বেঞ্চ জ্যাকলিনের আবেদন প্রত্যাহারের আর্জি মঞ্জুর করে।
অভিযোগিত প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখর-এর সঙ্গে যুক্ত ২০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র দায়ের করা অভিযোগপত্র এবং ট্রায়াল কোর্টের চার্জ গঠনের নির্দেশ বাতিল করতে অস্বীকার করেছিল দিল্লি হাইকোর্ট। সেই নির্দেশকেই সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন জ্যাকলিন।
এর আগে ১১ জুন মামলাটি বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং অতুল এস চান্দুরকার-র বেঞ্চে উঠেছিল। তবে বিচারপতি মিশ্র নিজেকে মামলার শুনানি থেকে সরিয়ে নেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় তাঁর ছেলে সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, তাই নিরপেক্ষতার স্বার্থে তিনি শুনানিতে অংশ নেবেন না।
পরবর্তীতে মামলাটি বিচারপতি নাগারত্না ও বিচারপতি বাগচির বেঞ্চে স্থানান্তরিত হয়। বৃহস্পতিবার শুনানির সময় জ্যাকলিন তাঁর আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি চান এবং আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে।
এর আগে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট-এ হাজির হয়ে জ্যাকলিন নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মামলায় বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ৩ জুন তিনি আদালতে জানান যে, তিনি অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাবেন।
এই মামলায় সুকেশ চন্দ্রশেখর, তাঁর স্ত্রী লীনা মারিয়া পল-সহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সকলেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বিচারের আবেদন জানিয়েছেন।
মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ জুলাই নির্ধারিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই জ্যাকলিন এই মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ বা সরকারি সাক্ষী হওয়ার আবেদনও প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ইডি সেই আবেদনের বিরোধিতা করে দাবি করেছিল যে তদন্ত চলাকালীন তাঁর আচরণ সন্তোষজনক ছিল না এবং তিনি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর ৫০ ধারায় দেওয়া বয়ানে সম্পূর্ণ ও সত্য তথ্য প্রকাশ করেননি।
ইডির অভিযোগ, সুকেশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পরও জ্যাকলিন তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেননি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে সুকেশ অভিনেত্রীকে বিলাসবহুল উপহার, মূল্যবান সামগ্রী ও অন্যান্য সুবিধা দিয়েছিলেন।
ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, জ্যাকলিন প্রায় ৭ কোটি টাকার বিলাসবহুল উপহার গ্রহণ করেছিলেন। তবে অভিনেত্রীর দাবি, সুকেশের কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উপহারের অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
উল্লেখ্য, এই মানি লন্ডারিং মামলার সূত্রপাত হয় শিবিন্দর সিং এবং মালবিন্দর সিং-এর স্ত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করে।
_______


















