নয়াদিল্লি, ২৪ জুন (আইএএনএস): ভারত ও আমেরিকার মধ্যে পারস্পরিকভাবে লাভজনক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ) চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এবং তাঁর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য জানান।
সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় গোয়েল বলেন, চলমান ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি লেখেন, “ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতি আমরা পর্যালোচনা করেছি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিভিন্ন পথ খুঁজে দেখেছি।”
গোয়েল আরও বলেন, “আলোচনাকে গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের নেতৃত্ব এবং উভয় পক্ষের দলের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই।”
এর আগে মঙ্গলবার গোয়েল মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
গোয়েল বলেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমশ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির যৌথ বিবৃতির আলোকে একটি সুষম ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য চুক্তির দিকে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও ভারতে আগত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশ একটি শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে দ্রুত এগোচ্ছে, যা উভয় দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং ভারত-আমেরিকা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে।
তিনি জানান, এই সপ্তাহে গ্রিয়ার ও গোয়েলের মধ্যে একাধিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশের প্রধান বাণিজ্য আলোচকদের মধ্যেও বৈঠক হয়েছিল।
সূত্রের খবর, বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ভবিষ্যতে একটি বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
আগামী ২৪ জুলাই আমেরিকার পক্ষ থেকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের উপর আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। সেই প্রেক্ষাপটে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারত সরকার জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এবং নতুন বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে তারা গঠনমূলকভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।


















