News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • ‘জিহাদ’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে জমিয়ত প্রধান আরশাদ মাদানি, হরিদ্বারে বক্তব্যে রাজনৈতিক তরজা
Image

‘জিহাদ’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে জমিয়ত প্রধান আরশাদ মাদানি, হরিদ্বারে বক্তব্যে রাজনৈতিক তরজা

হরিদ্বার/নয়াদিল্লি, ২৪ জুন (আইএএনএস): উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের কালিয়ার এলাকায় অনুষ্ঠিত জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সংগঠনের জাতীয় সভাপতি মাওলানা সৈয়দ আরশাদ মাদানী-র ‘জিহাদ’ সংক্রান্ত মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার উলামা, হাফেজ এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের এক বৃহৎ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাদানি বলেন, “১৮০৩ সালে যখন দেশ পরাধীন ছিল, তখন দেশের স্বাধীনতার জন্য জিহাদের আহ্বান জানানো হয়েছিল। দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে দেশকে মুক্ত করার জন্য জিহাদ করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। এই আন্দোলনের সূচনা মাদ্রাসা থেকেই হয়েছে। যে এটি জানে না, সে অজ্ঞ।”

তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বক্তব্যে মাদানি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমান ও মসজিদগুলির অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মসজিদ ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলি মুসলমানদের ক্ষতি করেছে এবং তাদের বারবার দাঙ্গা ও অশান্তির মধ্যে জড়িয়ে রেখেছে। বর্তমান সরকার শুধু মুসলমানদের নয়, ইসলাম ধর্মেরও বিরোধিতা করছে। বুলডোজার দিয়ে ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা হচ্ছে।”

মাদানির দাবি, দেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নে মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, “ভালোবাসা ও সম্প্রীতি ছাড়া দেশ চলতে পারে না। অথচ আজ মসজিদ ও মাদ্রাসা ভাঙা হচ্ছে এবং মুসলমানরা গণপিটুনির শিকার হচ্ছেন।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মুসলমানরা দেশের জন্য কী দিয়েছেন এবং আজ তারা বিনিময়ে কী পাচ্ছেন?”

ঘৃণার রাজনীতি ত্যাগ করে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির রাজনীতি শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভালোবাসা ও মানবিকতা ছাড়া কোনও জাতি টিকে থাকতে পারে না।”

মুসলমানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সকলের সঙ্গে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করাই প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয়। অন্যথায় কাউকে দেশের প্রতি অনুগত বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মাদানি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বন্যার সময় জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে দুর্গতদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছিল। এছাড়া দিল্লির সহিংসতার সময়ও ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ না করে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, “যারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, আজ তাদেরই বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং মাদ্রাসা বন্ধ করা হচ্ছে।”

সভায় সম্প্রদায়ের কল্যাণ, শিক্ষা এবং সামাজিক ঐক্য নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত ধর্মীয় নেতারা শান্তি, সম্প্রীতি এবং সহাবস্থানের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

_______ 

Releated Posts

প্যাথোজেন অ্যাক্সেস ও সুফল বণ্টনে ন্যায্যতার পক্ষে ভারতের সওয়াল

নিউইয়র্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মহামারি প্রতিরোধ ও মোকাবিলা নিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্যান্ডেমিক…

ByByNews Desk Sep 26, 2026

পরিষেবা কোটায় অনিয়মের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের চিহ্নিত করছে বঙ্গের স্বাস্থ্য দফতর

কলকাতা, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পরিষেবা কোটায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া জুনিয়র চিকিৎসকদের মধ্যে…

ByByNews Desk Sep 26, 2026

২০২৭-এর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক কেশব প্রসাদ মৌর্যের

লখনউ, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করলেন…

ByByTaniya Chakraborty Sep 25, 2026

ভুজ-বড়ৌনির মধ্যে সপ্তাহে তিন দিন চলবে নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, অনুমোদন রেলের

নয়াদিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): গুজরাটের ভুজ থেকে বিহারের বড়ৌনি পর্যন্ত নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালুর অনুমোদন দিয়েছে ভারতীয়…

ByByTaniya Chakraborty Sep 25, 2026
Scroll to Top