কলকাতা, ২৩ জুন (আইএএনএস) : দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলায় সমস্ত পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার আদালতের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত এই নির্দেশ দেন। মামলাটি দায়ের করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন।
এই মাসের শুরুতে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের বেঞ্চে নির্বাচনী ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি কান্ত পর্যবেক্ষণ করেন যে, আবেদনটি জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর বিধান মেনে দাখিল করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আদালত সন্তুষ্ট।
ফলে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আগামী দিনে বিস্তারিত শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হবে। আদালত আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ১২ সপ্তাহ পরে।
এছাড়াও বিচারপতি কান্ত ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই কেন্দ্রের সমস্ত বুথে ব্যবহৃত ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট যন্ত্রগুলিও সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানির শুরুতে বিচারপতি কান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী ও তৃণমূল কংগ্রেসের চারবারের লোকসভা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-কে প্রশ্ন করেন, তাঁর দাদা বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র হওয়ায় বিচারপতি কান্তের এই মামলার শুনানি নিয়ে কোনও আপত্তি রয়েছে কি না। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁর কোনও আপত্তি নেই। এরপরই মামলার শুনানি এগিয়ে নিয়ে যান বিচারপতি কান্ত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের অধিকাংশই আদালতে নির্বাচনী ফল চ্যালেঞ্জ করেননি। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ের আহ্বান সত্ত্বেও তাঁরা জনমতকে মেনে নিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে পরাজিত ২১১ জন তৃণমূল প্রার্থীর মধ্যে ২০৩ জন, অর্থাৎ প্রায় ৯৬.২০ শতাংশ, এখনও পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টে কোনও নির্বাচনী আবেদন দায়ের করেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন-সহ এখনও পর্যন্ত মোট আটটি নির্বাচনী মামলা দায়ের হয়েছে।



















