কৈলাসহর, ২৩ জুন : ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরে জমি সংক্রান্ত বিবাদে দুই ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই ধরনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক কৃষকের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এবার ফটিকরায় থানাধীন গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জমি নিয়ে বিবাদের জেরে শাসকদলের এক প্রাক্তন প্রধানের বিরুদ্ধে ষাট বছরের এক কৃষককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই কৃষক বর্তমানে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও ঘটনার চার দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। উল্টো থানায় গেলে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, ফটিকরায় থানার অন্তর্গত গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুখলাল দে পেশায় কৃষক ও দিনমজুর। তাঁর ছেলে সুজয় দে জানান, বাড়ির পাশ দিয়ে একটি সরু কাঁচা রাস্তা রয়েছে, যা মূলত মৃত্যুঞ্জয় সিনহা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করেন। সম্প্রতি ওই রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য সুখলালের কাছ থেকে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু বিনামূল্যে জমি দিতে রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের।
অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় একা পেয়ে মৃত্যুঞ্জয় সিনহা সুখলাল দে-কে মারধর করেন। হামলায় তাঁর পেট, বুক, মাথা ও কানে গুরুতর আঘাত লাগে। কোনওমতে বাড়ি ফিরে এলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে প্রথমে ফটিকরায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে ভর্তি করেন এবং পরদিন রবিবার সকালে কৈলাসহরের ভগবাননগরস্থিত ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে রেফার করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা হাসপাতালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুজয় দে জানান, তাঁর বাবা এখনও বুক ও পেটের যন্ত্রণায় ভুগছেন। ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না এবং শক্ত খাবার খাওয়ার অবস্থায় নেই। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে শুধুমাত্র তরল খাবার দেওয়া হচ্ছে।
সুজয়ের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন শনিবার তিনি ফটিকরায় থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও এখনও পর্যন্ত অভিযোগের রিসিভ দেওয়া হয়নি এবং মামলা রুজুও করা হয়নি। এমনকি সোমবার তাঁর মা থানায় গিয়ে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ তাঁদের চুপ থাকার এবং নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত মৃত্যুঞ্জয় সিনহা গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রাক্তন প্রধান হওয়ায় পুলিশ তাঁর প্রভাবেই কাজ করছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
একের পর এক জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে ঊনকোটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
























