উদয়পুর, ২৩ জুন : শিক্ষক স্বল্পতার পাশাপাশি শিক্ষকদের খামখেয়ালিপনা ও অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে শিক্ষার পরিবেশ দিন দিন ভেঙে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে উদয়পুর মহকুমার পশ্চিম গকুলপুর দক্ষিণপাড়া উচ্চ বুনিয়াদী বিদ্যালয়কে ঘিরে। এর ফলে বহু ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে এবং শিক্ষার মূলধারা থেকে দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি অভিভাবকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মোট আটটি শ্রেণি থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা মাত্র ছয়জন। ফলে সীমিত সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে দিয়েই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ, যার ফলে শিক্ষার মান আরও নিম্নমুখী হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক সংকটের কারণে প্রায়শই দুই বা তিনটি শ্রেণিকে একত্রিত করে একই কক্ষে পাঠদান করানো হয়। এতে ছাত্র-ছাত্রীরা বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও অভিযোগ, অনেক সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শ্রেণিকক্ষে না থেকে নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে শিক্ষার্থীদের একাংশ পড়াশোনার পরিবর্তে খেলাধুলা ও আড্ডায় বেশি সময় কাটাচ্ছে।
সোমবার বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় একটি শ্রেণিকক্ষে মাত্র তিনজন ছাত্র-ছাত্রীকে উপস্থিত অবস্থায় দেখা যায়। তাদের মধ্যে একজন প্রথম শ্রেণির, একজন দ্বিতীয় শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ, সে সময় ওই শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা কার্যত শিক্ষকবিহীন অবস্থায় বসে ছিল।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে মোট ছয়জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত থাকলেও সেদিন উপস্থিত ছিলেন পাঁচজন। একজন শিক্ষক টেপানিয়া ব্লকে সেন্সাস সংক্রান্ত সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, আটটি শ্রেণির জন্য মাত্র ছয়জন শিক্ষক নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের এই দুরবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা আধিকারিক কিংবা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়নও থমকে রয়েছে।
স্থানীয় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মহলের মতে, শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলার অবনতির কারণে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে তাঁদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন। যার ফলে প্রতি বছরই বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবকরা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসলেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা আশ্বাস মেলেনি বলে অভিযোগ। ফলে বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
























