শান্তিরবাজার, ২৩ জুন : শান্তিরবাজার মহকুমার অন্তর্গত মনু জমাতিয়া পাড়া থেকে সর্দারাই রিয়াং পাড়া পর্যন্ত সংযোগকারী সড়কের বেহাল দশা ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রামীণ সড়কটি বর্তমানে প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকার প্রায় ৫২টি পরিবার প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বামফ্রন্ট সরকারের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান বিজেপি-তিপ্রা মথা জোট সরকারের আমলেও একাধিকবার রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাস্তার বিভিন্ন অংশ কাদা ও জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত কার্যত দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, সড়কের উপর নির্মিত একটি কাঠের কালভার্ট বর্তমানে ভেঙে পড়ার মুখে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই সড়কই দুই গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হওয়ায় প্রতিদিন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, কৃষক, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ২২ কাঠালিয়া-রাজাপুর-মির্জা কেন্দ্রের নির্বাচিত এমডিসি ডেবিট মুড়াসিং নির্বাচনের সময় রাস্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর আর এলাকায় দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার কথা জানাতে চাইলেও জনপ্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তাঁরা।
গ্রামবাসীদের কথায়, “নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতির শেষ থাকে না, কিন্তু ভোট শেষ হলেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেন কারও নজরে পড়ে না। বছরের পর বছর আমরা একই সমস্যার মধ্যে বসবাস করছি, অথচ সমাধানের কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বিজেপি-তিপ্রা মথা জোট সরকারের আমলেও এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের উন্নয়নে কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
বর্তমানে মনু জমাতিয়া পাড়া ও সর্দারাই রিয়াং পাড়ার বাসিন্দাদের একটাই দাবি, অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের কালভার্টটি মেরামত করে সম্পূর্ণ সড়কের সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
























