নয়াদিল্লি, ২১ জুন : প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা মামলায় বড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশ। শেয়ার বাজারে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের শেয়ারও ফ্রিজ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিক সুবিধাভোগী অ্যাকাউন্টের আর্থিক যোগসূত্রের বিস্তারিত তথ্যও উদ্ধার করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযোগকারীকে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে আকর্ষণীয় ও উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয়। বিভিন্ন কিস্তিতে অর্থ স্থানান্তর করার পরও ভুক্তভোগী ব্যক্তি প্রতিশ্রুত লাভ তো দূরের কথা, নিজের মূলধনও ফেরত পাননি।
এই ঘটনায় রাজিন্দর নগর থানায় এফআইআর নং ১৮২/২০২৬ দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৩১৮(৪) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় সাব-ইন্সপেক্টর ধর্মেন্দ্রকে। করোল বাগের এসিপি শিবমের তত্ত্বাবধানে এবং রাজিন্দর নগর থানার এসএইচও ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তকারী দল ব্যাপক আর্থিক ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালায়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, লেনদেনের নথি, ডিজিটাল প্রমাণ এবং মোবাইল ডেটা খতিয়ে দেখা হয়। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও সুবিধাভোগী অ্যাকাউন্টগুলির বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্থের গতিপথ শনাক্ত করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্ত হলেন পীযূষ কুমার (৩১), দিল্লির করোল বাগ এলাকার বাসিন্দা এবং যতীন খাজোটিয়া (৩১), হরিয়ানার গুরুগ্রামের বাসিন্দা। তদন্তে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে পীযূষ কুমারকে নয়াদিল্লির হোটেল আইটিসি মৌর্য থেকে এবং যতীন খাজোটিয়াকে গুরুগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশি জেরায় অভিযুক্তরা অভিযোগকারী ব্যক্তির আস্থা অর্জন করে তাকে শেয়ার বাজার-সংযুক্ত বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ লগ্নি করতে প্ররোচিত করার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা অর্থের একটি অংশ একাধিক সুবিধাভোগী অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে স্থানান্তর করে শেয়ার বাজারের বিভিন্ন আর্থিক উপকরণে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এর ফলে অর্থের গতিপথ বা ‘মানি ট্রেল’ স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের শেয়ার ফ্রিজ করা হয়েছে। অপরাধলব্ধ অর্থের সঙ্গে যুক্ত আরও সম্পদের সন্ধান চলছে। অভিযুক্তদের অতীত অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আরও সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে বাকি অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই অনলাইন বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এবং জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরকদমে চলছে।



















