আগরতলা, ১৮ জুন : দক্ষিণ ত্রিপুরার করবুক মহকুমার অন্তর্গত পোয়াংবাড়ি এডিসি ভিলেজে বৃহস্পতিবার তিপরা মথা পার্টি ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ তিপরা মথা পার্টির কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে যান। দলের অভিযোগ, পোয়াংবাড়ি এলাকার বহু বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে রেগা (এমজিএনআরইজিএ) প্রকল্পসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এই বিষয়গুলির প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সমস্যাগুলির সমাধানের দাবিতে পঞ্চায়েত সচিব ও জিআরএস-এর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়।
তিপরা মথা নেতৃত্বের দাবি, স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় বিজেপি কর্মীরা তাদের বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে চেলাগাং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল দাস বিশাল পুলিশ বাহিনী ও টিএসআর জওয়ানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে তিপরা মথা প্রতিনিধিরা তাদের দাবিপত্র ওসি বাবুল দাসের হাতে তুলে দেন। ওসি জানান, দাবিপত্রটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে, বিশেষ করে করবুক ব্লকের বিডিও সুব্রজিৎ পলের নিকট পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
পরে তিপরা মথা পার্টির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের নেতারা অভিযোগ করেন, এর আগেও একই ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের সময় বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, কেন এলাকার সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং কেন তাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরার ক্ষেত্রে বারবার প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে পঞ্চায়েত সচিব পরিতোষ দাস, জিআরএস সজল সরকার এবং প্রাক্তন জিআরএস মনোরঞ্জন চাকমার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলা হয়। পাশাপাশি পঞ্চায়েত পরিচালনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।























