News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • কৃষিজমি সংরক্ষণে প্রাকৃতিক কৃষিই ভবিষ্যৎ: কৃষিমন্ত্রী
Image

কৃষিজমি সংরক্ষণে প্রাকৃতিক কৃষিই ভবিষ্যৎ: কৃষিমন্ত্রী

আগরতলা, ১৭ জুন : কৃষকদের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে প্রাকৃতিক কৃষির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

বুধবার উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগরের রাগনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ ও প্রাকৃতিক কৃষি বিষয়ক একদিনের জেলা পর্যায়ের কর্মশালার উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে বর্তমানে রাজ্যে ২৮৪টি উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু রয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মূল লক্ষ্য সমাজের অন্তিম ব্যক্তির উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি দাবি করেন, এসব প্রকল্পের অধিকাংশই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে চালু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রতন লাল নাথ বলেন, কৃষিজমি রক্ষা এবং কৃষকদের প্রাকৃতিক চাষাবাদের প্রতি উৎসাহিত করতেই দেশব্যাপী ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ পরিচালিত হচ্ছে। গত ১ জুন শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের ফলে কৃষিজমির উর্বরতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে এবং জমি দূষণের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক ও জৈব কৃষির দিকে অগ্রসর হওয়া সময়ের দাবি। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে প্রাকৃতিক কৃষি চর্চা হচ্ছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা বাড়িয়ে ১৬ হাজার হেক্টরে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৮ সালের আগে রাজ্যে প্রাকৃতিক কৃষির অস্তিত্ব প্রায় ছিল না বললেই চলে। সে সময় মাত্র ২ হাজার হেক্টর জমিতে জৈব কৃষি চর্চা হতো। বর্তমানে সেই পরিমাণ বেড়ে ২৬ হাজার হেক্টরেরও বেশি হয়েছে। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। যদিও অনেকের ধারণা রাসায়নিক সার উৎপাদন বাড়ায়, বাস্তবে প্রাকৃতিক কৃষির মাধ্যমে কম খরচে টেকসই ও উন্নত উৎপাদন সম্ভব।

তিনি জানান, প্রাকৃতিক কৃষি প্রসারে সমাজের সব স্তরের মানুষকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদেরও নিজেদের জমিতে প্রাকৃতিক কৃষি গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হন।

ভারতের কৃষিক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃষিজমি সংরক্ষণ এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ লক্ষ্যে পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ স্তরে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের (কেভিকে) বিজ্ঞানীরাও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের সর্বাত্মক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশে পরিণত করা। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালের আগে ভারতের অর্থনীতি বিশ্বে ১১তম স্থানে থাকলেও বর্তমানে তা চতুর্থ স্থানে উন্নীত হয়েছে।

Releated Posts

বিশ্বকর্মা পূজার আগে ব্যস্ত আগরতলার মৃৎশিল্পীরা, তবে আগের মতো নেই বিক্রি

আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর দেবশিল্পী ভগবান বিশ্বকর্মার পূজা। সারাদেশের পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হবে…

ByByReshmi Debnath Sep 16, 2026

দিল্লিস্থিত এইমস হাসপাতালের সাথে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে রাজ্যেই উজ্জলা বিশ্বাস (সরকার)-এর কন্যার উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: রাজ্য সরকার সাধ্যমত মানুষের কল্যাণে কাজ করছে এবং নানা সহায়তা করে যাচ্ছে। রাজ্যে…

ByByReshmi Debnath Sep 16, 2026

রাণীরবাজারে বৃদ্ধার রহস্যমৃত্যু, ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ

আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: রাণীরবাজার থানাধীন বৃদ্ধনগর এলাকায় আঁখি ঘোষ নামে এক বৃদ্ধার রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পারিবারিক…

ByByReshmi Debnath Sep 16, 2026

রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের ঘাটতির অভিযোগ, যোগেন্দ্রনগরের সরলা এজেন্সিতে ভোক্তাদের বিক্ষোভ

আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: রাজ্যে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের সম্পূর্ণ আকাল না থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ হচ্ছে না বলে অভিযোগ…

ByByReshmi Debnath Sep 16, 2026
Scroll to Top