নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ জুন: মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়েছিল সে। বর্তমানে তার বয়স ১৭ বছর। কোলে রয়েছে দুই বছরেরও কম বয়সী এক কন্যাশিশু। এর মধ্যেই তাকে সহ্য করতে হয়েছে গার্হস্থ্য হিংসা ও নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন। তবুও শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ এতটুকুও কমেনি। সব প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে সে আবারও পড়াশোনা শুরু করতে চায়।
মঙ্গলবার দুপুরে সিপাহিজলা জেলার বক্সনগর আরডি ব্লকের অন্তর্গত মানিক্যনগর বাজারপাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এলাকায় এক নাবালিকা মায়ের এই করুণ বাস্তবতার কথা সামনে আসে। জানা গেছে, পরিবারের এক আত্মীয়া, তার মামি তাকে জোরপূর্বক অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকে সে বিভিন্ন ধরনের পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ।
বর্তমানে ওই কিশোরী পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তার এই ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে সিপাহিজলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (সিডব্লিউসি) এবং সিপাহিজলা জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিট (ডিসিপিইউ)।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাবালিকার শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তার এবং তার শিশুকন্যার সার্বিক কল্যাণের বিষয়েও নজর রাখা হবে।
শিশুবিবাহর মতো সামাজিক সমস্যার মধ্যেও এক কিশোরীর শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহ নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে তার অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন আবারও নতুন পথ খুঁজে পাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।



















