আগরতলা, ১২ জুন: রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের সরকারি চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ত্রিপুরার বিদ্যুৎ ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী রতনলাল নাথ। তিনি স্পষ্ট করেন, ঘটনাটি যে সময়ে ঘটুক না কেন কিংবা তখন যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সহায়তা করা হবে।
শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, ১৯৯৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ত্রিপুরায় মোট ১৫,৫৮৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকশো ঘটনা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এসব ঘটনার শিকার পরিবারগুলিকে সহায়তা করার লক্ষ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর “রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান প্রদান প্রকল্প” চালু করে।
তিনি বলেন, পরে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা-র নেতৃত্বে প্রকল্পটিতে সংশোধন আনা হয়। পূর্বে থাকা ৯ মার্চ ২০১৮-এর কাট-অফ তারিখ বাতিল করা হয়, ফলে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাটি যে সময়েই ঘটে থাকুক না কেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
যাচাই-বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রতন লাল নাথ জানান, এ পর্যন্ত মোট ৩৮টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১৮ জনকে ইতিমধ্যেই চাকরি দেওয়া হয়েছে এবং ১১টি ক্ষেত্রে সুপারিশ করা হয়েছে। পাঁচটি আবেদন খারিজ করা হয়েছে, আর চারটি আবেদন এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রতিটি আবেদন পুলিশ রিপোর্ট, দেওয়ানি প্রশাসনের তদন্ত এবং আইন, স্বরাষ্ট্র ও তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই করা হয়।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন যে পূর্ববর্তী বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সংঘটিত বহু ঘটনার যথাযথ নথি সংরক্ষিত ছিল না। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় আনুগত্য বিবেচনা করা হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
একইসঙ্গে কংগ্রেস-সিপিআই(এম) জোটের সমালোচনা করে রতন লাল নাথ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সিপিআই(এম)-এর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক হিংসার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে সিপিআই(এম)-এর এবং এ বিষয়ে দলটির অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।
























