News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • সরকারি আশ্বাসে প্রত্যাহার অবরোধ, স্বাভাবিক হল সড়ক ও রেলপথ
Image

সরকারি আশ্বাসে প্রত্যাহার অবরোধ, স্বাভাবিক হল সড়ক ও রেলপথ

আগরতলা, ১২ জুন: ত্রিপুরায় ত্রিপাক্ষিক শান্তি চুক্তির দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে ডাকা সড়ক ও রেল অবরোধকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাজ্যের বিভিন্ন অংশে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। শুক্রবার অবরোধস্থলে যান জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা সহ উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকগন। কথা বলেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। তারপরেই ৭২ ঘন্টার জন্যে ডাক দেওয়া রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন আত্মসমর্পণকারী বৈরীরা।
এর ফলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় জাতীয় সড়ক ও রেল পরিষেবা।

উল্লেখ্য, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ‘তিপ্রাসা ইউনিটি ফর জাস্টিস’-এর ব্যানারে রাজ্যের একাধিক স্থানে অবরোধ পালন করা হয়। , বড়মুড়া-হাতাইকতর এলাকার চন্দ্রসাধুপাড়া, মান্দাইয়ের ভৃগুদাসবাড়ি রেলপথ এলাকা এবং সুবল সিং এলাকায় জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে আন্দোলনকারীরা অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন। পাশাপাশি রেলপথেও প্রতীকী অবরোধের চেষ্টা চালানো হয়।

অবরোধের জেরে শুক্রবার দুপুর প্রায় ১ টা পর্যন্ত জাতীয় সড়কে যান চলাচল এবং রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়। ফলে নিত্যযাত্রী ও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আন্দোলনকারীদের মধ্যে পরিমল দেববর্মা, প্রসেনজিৎ দেববর্মা-সহ বেশ কয়েকজন নেতৃত্বস্থানীয় সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, তিপ্রাসা জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি, পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকর রূপায়ণ এবং কোকবরক ভাষাকে রোমান লিপিতে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শান্তি চুক্তির ২৫ নম্বর ধারায় এই বিষয়গুলির উল্লেখ রয়েছে। এই দাবিগুলির ভিত্তিতেই সকাল থেকে রেল ও সড়ক পথ অবরোধ করে আন্দোলন চলতে থাকে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন তাঁরা। আলোচনায় সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।

সরকারি আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় সড়কে যান চলাচল ও রেলপথ অবরোধ মুক্ত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তিপ্রাসা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি এবং শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্দোলন রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে সরকারি আশ্বাসে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত হলেও রাজনৈতিক মহলে এনিয়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।

Releated Posts

এনডিএ জোটে থেকেই নির্বাচনী লড়াই, আসন সমঝোতা নিয়ে কমিটির বৈঠক চলছে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১১ সেপ্টেম্বর: আগামী ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি, আইপিএফটি এবং তিপ্রা মথাকে নিয়ে এনডিএ জোটের ঐক্যবদ্ধভাবে…

ByByReshmi Debnath Sep 11, 2026

সপ্তাহে ৫ দিন ব্যাংকিং পরিষেবার দাবিতে দেশজুড়ে ব্যাংক ধর্মঘট

আগরতলা, ১১ সেপ্টেম্বর: সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাংকিং পরিষেবা চালু রাখার দাবিসহ একাধিক দাবিকে সামনে রেখে শুক্রবার দেশজুড়ে ব্যাংক…

ByByReshmi Debnath Sep 11, 2026

স্বশাসিত জেলা পরিষদ বামফ্রন্টের ধারাবাহিক লড়াইয়ের ফল: মানিক সরকার

আগরতলা, ১০ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার উপজাতি অধ্যুষিত এলাকার স্বশাসিত জেলা পরিষদ গড়ে ওঠার পেছনে বামফ্রন্ট সরকারের ধারাবাহিক আন্দোলন ও লড়াইয়ের…

ByByReshmi Debnath Sep 10, 2026

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ভারত: প্রধানমন্ত্রী মোদি

নয়াদিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর(আইএএনএস) : আগামী সপ্তাহান্তে নয়াদিল্লিতে দু’দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

ByBySandeep Biswas Sep 10, 2026
Scroll to Top