নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুন: বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিদ্যুৎ ভবনের সামনে বিক্ষোভ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে বিদ্যুৎ গ্রাহক ও বিদ্যুৎ কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।
ফুয়েল চার্জ, ফিক্সড চার্জ ও ডিউটি চার্জের আড়ালে চড়া হারে বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে মঙ্গলবার আগরতলার বিদ্যুৎ ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিদ্যুৎ গ্রাহক ও বিদ্যুৎ কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনের সদস্যরা অভিযোগ করেন, বিদ্যুতের মূল ট্যারিফের পাশাপাশি বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করে সাধারণ গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে সুব্রত গাঙ্গুলী বলেন, বিদ্যুতের বিল ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। বিদ্যুৎ খাতকে ধাপে ধাপে বেসরকারিকরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চলছে, যার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপছে। সংগঠনের অভিযোগ, বিদ্যুতের মূল ইউনিট মূল্য ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত চার্জ আরোপের ফলে গ্রাহকদের প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, ফুয়েল চার্জ, ফিক্সড চার্জ ও অন্যান্য অতিরিক্ত মাশুলের নামে যে বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার দাবিও জানান তিনি।বিক্ষোভকারীরা সতর্ক করে বলেন, বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তারা। কর্মসূচিতে সংগঠনের
অন্যান্য সদস্য ও বিদ্যুৎ গ্রাহকরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল কার্যকর হলে বিদ্যুৎ পরিষেবায় বেসরকারি সংস্থার প্রবেশ আরও সহজ হবে এবং এর ফলে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের মূল্য আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি স্মার্ট মিটার ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তোলা হয়। তাদের অভিযোগ, প্রিপেইড স্মার্ট মিটার চালুর ফলে গ্রাহকদের আগাম অর্থ প্রদান করতে হচ্ছে, যা বহু সাধারণ পরিবারের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রচারপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে ‘টাইম অব ডে’ ট্যারিফ চালু হলে দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার বিভিন্ন কারিগরি ও বাণিজ্যিক ক্ষতি কমানোর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার বোঝা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের উপরই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ চুরি রোধ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দূর করার পরিবর্তে বারবার বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।


















