News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ত্রিপুরার ১০ হাজারের বেশি শিক্ষকের চাকরিতে অনিশ্চয়তা, টেট পাশ বাধ্যতামূলক
Image

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ত্রিপুরার ১০ হাজারের বেশি শিক্ষকের চাকরিতে অনিশ্চয়তা, টেট পাশ বাধ্যতামূলক

আগরতলা, ৯ জুন : শিক্ষক নিয়োগে টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (টেট) বাধ্যতামূলক হওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের জেরে ত্রিপুরার ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রাজ্যের সরকারি, সরকার-পোষিত এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক এই রায়ের আওতায় পড়তে পারেন বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে।

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকতার ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। অর্থাৎ, শিক্ষা অধিকার আইন (আরটিই), ২০০৯-এর আওতাভুক্ত শ্রেণিগুলিতে কর্মরত শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেট পাশ করতে হবে।

শিক্ষা দফতরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়ে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষক এই নির্দেশনার আওতায় পড়তে পারেন। এদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত, বাকিরা মাধ্যমিক স্তরে কর্মরত।

সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৮-কে শেষ সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ওই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। উচ্চশিক্ষা দফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে টেট উত্তীর্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকা শিক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে।

বর্তমানে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মোট কতজন শিক্ষক এই রায়ের আওতায় পড়ছেন, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত বিজ্ঞান শিক্ষক, ২০০৩ ও ২০০৭ সালের সহকারী শিক্ষক এবং ২০১২ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত বিজ্ঞান শিক্ষকদের একটি বড় অংশ এই রায়ের প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন।

তবে ৫৫ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষক এবং যাঁদের অবসরের বাকি সময় পাঁচ বছরের কম, তাঁদের এই বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে ৫৫ বছরের কম বয়সী এবং এখনও টেট উত্তীর্ণ না হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে, সমগ্র শিক্ষা অভিযানের (সমগ্র শিক্ষা) অধীনে নিযুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই রায় কতটা প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ তাঁরা নিয়মিত সরকারি কর্মচারী নন এবং কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিস (কন্ডাক্ট) রুলস বা পৃথক কোনো পরিষেবা আচরণবিধির আওতায় পড়েন না।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মচারী সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় মজদুর সংঘ-ঘনিষ্ঠ ত্রিপুরা রাজ্য কর্মচারী সংঘ (টিআরকেএস), বিবেকানন্দ বিচার মঞ্চ, সিপিআই(এম)-সমর্থিত কর্মচারী সংগঠন এবং কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ কর্মচারী সংগঠনগুলি।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষক সংগঠনগুলি এই বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালেও ত্রিপুরায় এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো আন্দোলন বা গণআন্দোলনের সূচনা দেখা যায়নি।

এখন নজর রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের উদ্বেগ নিরসনে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনগুলি এ বিষয়ে কোনো যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ করে কি না।

উল্লেখ্য, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি মনমোহন-এর ডিভিশন বেঞ্চ ‘অঞ্জুমান ইশাআত-ই-তালিম ট্রাস্ট বনাম মহারাষ্ট্র রাজ্য’ মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন সংক্রান্ত একগুচ্ছ মামলার শুনানি শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করে।

Releated Posts

পশ্চিম মুহুরীপুরে একই পরিবারের তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য

শান্তিরবাজার, ২৪ জুলাই: দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার মহকুমার অন্তর্গত পশ্চিম মুহুরীপুর এলাকায় একই বাড়ি থেকে এক দম্পতির রক্তাক্ত…

ByByReshmi Debnath Jul 24, 2026

রাজ্য পুলিশ মহানির্দেশকের অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলার তদন্তে এসপি-র নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তদল গঠিত

আগরতলা, ২৪ জুলাই: রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকরের মৃত্যুর মামলার তদন্ত করবেন পশ্চিম জেলা পুলিশ সুপার নমিত পাঠক।…

ByByReshmi Debnath Jul 24, 2026

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মো. সাহাবুদ্দিন

ঢাকা, ২৪ জুলাই : বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকারকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে…

ByBySandeep Biswas Jul 24, 2026

জনকল্যাণমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর

আগরতলা, ২৪ জুলাই: রাজ্য সরকারের জনমুখী উন্নয়নমূলক কর্মসূচি দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী…

ByByReshmi Debnath Jul 24, 2026
Scroll to Top