কলকাতা, ৮ জুন (আইএএনএস): চেয়ারম্যান-সহ ১৪ জন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরের একযোগে ইস্তফার জেরে সোমবার ভেঙে গেল বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া পুরসভার বোর্ড।
চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১২ জন কাউন্সিলর তাঁদের পদত্যাগপত্র সিউড়ি মহকুমা প্রশাসকের কাছে জমা দেন। ইস্তফাপত্রে তাঁদের দাবি, “সাধারণ মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।”
বীরভূম জেলার ছয়টি পুরসভার মধ্যে এই প্রথম কোনও পুরবোর্ড ভেঙে গেল।
সাঁইথিয়া পুরসভায় মোট ১৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পুরভোটে ১৩টি ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। বাকি তিনটি ওয়ার্ডেও তৃণমূল প্রার্থীরাই জেতেন। ফলে পুরসভায় কোনও বিরোধী প্রতিনিধি ছিল না।
পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন বিপ্লব দত্ত এবং ভাইস-চেয়ারম্যান ছিলেন কাজী কামাল হুসেন।
সোমবার চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান-সহ ১৪ জন কাউন্সিলর তাঁদের পদত্যাগপত্র সিউড়ি মহকুমা প্রশাসক সুপ্রতিক সিং-এর কাছে জমা দেন।
তবে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মানস সিং এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মায়া সাহা পদত্যাগ করেননি।
সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ইস্তফার ফলে পুরবোর্ড ভেঙে যায়।
উল্লেখ্য, বীরভূম জেলায় মোট ছয়টি পুরসভা রয়েছে। বোলপুর, সিউড়ি, রামপুরহাট, দুবরাজপুর এবং নলহাটি পুরসভা এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শুধুমাত্র সাঁইথিয়া পুরসভাই ভেঙে গিয়েছে।
পদত্যাগের পর চেয়ারম্যান বিপ্লব দত্ত বলেন, “তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে আমরা জিতেছিলাম। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখন আমি বুঝতে পারছি না, প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস কোনটি। তাই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে আমি পদত্যাগ করেছি।”
ভাইস-চেয়ারম্যান কাজি কামাল হোসেন বলেন, “আমার স্ত্রী গত ১৫ বছর ধরে শয্যাশায়ী। আমিও অসুস্থ। সেই কারণেই পদত্যাগ করেছি।”
অন্যদিকে, বাকি কাউন্সিলররাও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ কান্ত সাহা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বে নতুন রাজ্য সরকার যেভাবে জনকল্যাণমূলক কাজ করছে, তাতে সবাই মুগ্ধ। সেই কারণেই সকলে তৃণমূল ছাড়ছেন। ওই দলের আর কোনও ভবিষ্যৎ নেই।”
























