কলকাতা, ৭ জুন (আইএএনএস): তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং জমি দখলের মতো একাধিক অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের এক বর্তমান কাউন্সিলর ও এক প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল কাউন্সিলর হলেন বাপ্পাদিত্য দাসগুপ্ত, যিনি কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি। শনিবার পাটুলি থানার পুলিশ তাঁকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা থানার সামনে জড়ো হয়ে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন।
বাপ্পাদিত্য দাসগুপ্ত প্রথমে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ২০১০ সালে প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জী-র সহায়তায় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৫ সালে উপনির্বাচনে জিতে কাউন্সিলর হন এবং ২০২১ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর কলকাতা পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের মুখ্য সচেতকের (চিফ হুইপ) দায়িত্ব পান।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর ঘনিষ্ঠরা বহু বিজেপি সমর্থকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছিল। বিজেপির দাবি, ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় তাঁর পাশাপাশি আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতা জড়িত ছিলেন।
এছাড়া, এলাকায় বাড়ি নির্মাণের অনুমতি পাইয়ে দেওয়ার নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা-কেও শনিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, খড়্গপুর রেলস্টেশন থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাঁকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, “সুজয় হাজরার গতিবিধির উপর পুলিশ নজর রাখছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গা-ঢাকা দিয়ে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে শালবনি থানায় হাজির হতে বলা হয়েছিল। পরে খড়্গপুর রেলস্টেশন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত চলছে, এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”
পুলিশ জানিয়েছে, উভয় ক্ষেত্রেই তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অন্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
________
























