নয়াদিল্লি, ৬ জুন (আইএএনএস): ভারতের ইতিহাসে ভগবান শ্রী বিরসা মুন্ডার স্থান অনন্য ও অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন দিল্লি বিধানসভার স্পিকার বিজেন্দর গুপ্ত। শনিবার ‘ভগবান শ্রী বিরসা মুন্ডা, আদিবাসী ভারতের সাংস্কৃতিক নবজাগরণ এবং জাদুঘরে তাঁর উপস্থাপনা’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিজেন্দর গুপ্ত বলেন, আদিবাসী সমাজে ‘ধরতি আবা’ নামে শ্রদ্ধেয় বিরসা মুন্ডা শুধু একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন না, তিনি আত্মমর্যাদা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক জাগরণের প্রতীক ছিলেন।
তিনি বলেন, “বিরসা মুন্ডার উত্তরাধিকার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অধিকার রক্ষা এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণ একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।”
মিউজিয়ামস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে জাদুঘর বিশেষজ্ঞ, ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ, গবেষক এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল বিরসা মুন্ডার ঐতিহ্য, আদিবাসী সমাজে সাংস্কৃতিক নবজাগরণ এবং আদিবাসী ঐতিহ্য সংরক্ষণে জাদুঘরের ভূমিকা।
বক্তব্যে স্পিকার বলেন, বিরসা মুন্ডার আন্দোলন শুধুমাত্র ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ছিল না, বরং সাংস্কৃতিক পরিচয়, প্রথাগত প্রতিষ্ঠান এবং আদিবাসী জীবনধারা রক্ষার এক দৃঢ় প্রচেষ্টাও ছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, এমন এক সময়ে যখন আদিবাসী সমাজ অর্থনৈতিক শোষণ, সামাজিক অস্থিরতা এবং ঐতিহ্যগত মূল্যবোধের ক্ষয়ের মুখে পড়েছিল, তখন বিরসা মুন্ডা তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, মর্যাদাবোধ এবং সাংস্কৃতিক চেতনার নতুন সঞ্চার ঘটিয়েছিলেন।
বিজেন্দর গুপ্তের মতে, বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে যে সাংস্কৃতিক নবজাগরণ ঘটেছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিজেদের ইতিহাস, জ্ঞানচর্চা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা।
ভারতের আদিবাসী ঐতিহ্যের সমৃদ্ধির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আদিবাসী সমাজের কাছে রয়েছে মৌখিক সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি, সঙ্গীত, শিল্পকলা, পরিবেশগত জ্ঞান এবং বহু প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক চর্চার এক অসাধারণ ভাণ্ডার।
তিনি বলেন, “এই ঐতিহ্যগুলি শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং জীবন্ত সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি, যা আজও ভারতের সামাজিক কাঠামোকে সমৃদ্ধ করছে।”
স্পিকার আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসী সমাজ বন, জীববৈচিত্র্য এবং টেকসই জীবনযাত্রার রক্ষক হিসেবে কাজ করেছে। পরিবেশগত সংকট এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই সময়ে তাদের জ্ঞানব্যবস্থা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বহু দশক ধরে মূলধারার ইতিহাসচর্চায় আদিবাসী সমাজের ইতিহাস এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের অবদান যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
আদিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মান জানানো, ‘জনজাতীয় গৌরব দিবস’ পালন এবং আদিবাসী ঐতিহ্য নথিভুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিজেন্দর গুপ্ত বলেন, এগুলি ভারতের ইতিহাসকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
_______



















