তেলিয়ামুড়া, ৬ জুন: দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে শনিবার আকস্মিক পরিদর্শনে যান তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা তথা রাজ্য বিধানসভার মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায়। পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের একাধিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্বলতার চিত্র সামনে আসায় স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার মান, রোগী কল্যাণ তহবিলের অর্থ ব্যবহারে গাফিলতি, গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ ও ভ্যাকসিন সংক্রান্ত অনিয়ম, কর্মীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং দালালচক্রের সক্রিয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজা জমাতিয়া।
শনিবারের পরিদর্শনে বিধায়িকা দেখতে পান, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সমীর দেববর্মাসহ একাধিক কর্মী অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে শৃঙ্খলার অভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার বিষয়টিও তাঁর নজরে আসে।
পরিদর্শনকালে রোগী উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা ফেরত যাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ ও ভ্যাকসিন সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সূত্রের খবর, এসব বিষয়ে মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজা জমাতিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এর ফলে হাসপাতাল পরিচালনা ও তদারকি নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিধায়িকা ঘটনাস্থল থেকেই স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং বিষয়টি তাঁর নজরে আনেন। পাশাপাশি তিনি জানান, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহার কাছেও উত্থাপন করা হবে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণী সাহা রায় বলেন, “তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে কার্যত নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।” হাসপাতালের এলডিসি প্রশান্ত সিনহা, চিকিৎসক সমীর দেববর্মাসহ কয়েকজন কর্মীর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অ্যাম্বুলেন্স সংকট প্রসঙ্গে বিধায়িকা জানান, অতীতে বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়েছিল। এছাড়াও হাসপাতালের কাছে আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা। তবুও যদি প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে পুনরায় বিধায়ক তহবিল বা রাজ্য সরকারের সহায়তায় নতুন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে।
শনিবারের এই আকস্মিক পরিদর্শনে হাসপাতালের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা স্বাস্থ্য পরিষেবার মান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এখন নজর থাকবে স্বাস্থ্য দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এবং অভিযোগগুলির তদন্ত ও সমাধানে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় তার ওপর।























