নয়াদিল্লি, ৫ জুন (আইএএনএস): ভারতের শেয়ারবাজার এবং সরকারি সিকিউরিটিজে স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি মূলধন প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করতে এই সংস্কারগুলি আনা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেছিলেন যে, বিদেশে বসবাসকারী ব্যক্তিরা (পার্সনস রেসিডেন্ট আউটসাইড ইন্ডিয়া বা পিআরওআই) পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট স্কিমের মাধ্যমে ভারতের তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এতদিন এই সুবিধা শুধুমাত্র অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই) এবং ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই)-দের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ভারতীয় সংস্থায় একজন পিআরওআই-এর বিনিয়োগসীমা ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হবে। একইসঙ্গে সব পিআরওআই বিনিয়োগকারীর সম্মিলিত বিনিয়োগসীমা বর্তমান ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৪ শতাংশ করা হচ্ছে।
এই পরিবর্তন কার্যকর করতে অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা (অ-ঋণ উপকরণ) বিধির তৃতীয় সংশোধনী, ২০২৬ জারি করতে চলেছে।
অর্থ মন্ত্রকের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বিদ্যমান এনআরআই ও ওসিআই বিনিয়োগকারীদের জন্য চালু থাকা নিবন্ধন ও অনুমোদন ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি বিদেশি পোর্টফোলিও মূলধন আকর্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কমপ্লায়েন্সের জটিলতা কমবে এবং ব্যবসা পরিচালনার সহজতাও বাড়বে।
সরকারি সিকিউরিটিজে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ উন্মুক্ত বিনিয়োগ ব্যবস্থা বা ‘ফুলি অ্যাক্সেসিবল রুট’-এর আওতায় এখন ১৫ বছর, ৩০ বছর ও ৪০ বছরের মেয়াদি নতুন সরকারি বন্ড এবং গ্রিন বন্ড অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এছাড়া সাধারণ রুটে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগসীমা, একক বিনিয়োগকারীর ঘনত্বসীমা এবং নির্দিষ্ট সিকিউরিটিজভিত্তিক সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারি সিকিউরিটিজের মোট বকেয়া স্টকের ৬ শতাংশ এবং রাজ্য সরকারি সিকিউরিটিজের ২ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগের সামগ্রিক সীমা বহাল থাকবে।
অর্থ মন্ত্রকের মতে, এই পদক্ষেপগুলির ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী যেমন পেনশন তহবিল, বিমা সংস্থা এবং সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলির কাছ থেকে আরও স্থিতিশীল বিদেশি মূলধন আসবে। একইসঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে, সরকারি সিকিউরিটিজে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের সুদ ও মূলধনী মুনাফার উপর আয়কর থেকে ছাড় দেওয়া হবে। এই সুবিধা ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
কেন্দ্রের দাবি, এই সংস্কারগুলির ফলে বাজারে প্রবেশের জটিলতা কমবে, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে উঠবে।


















