নয়াদিল্লি, ৫ জুন (আইএএনএস) : তামিলনাড়ু বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে. অন্নামালাই বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। শুক্রবার বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সদর দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অরুণ সিং এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, তামিলনাড়ু বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে. অন্নামালাইয়ের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র দলের জাতীয় সভাপতি গ্রহণ করেছেন।
এদিকে, অন্নামালাইয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। শোনা যাচ্ছে, তিনি শীঘ্রই একটি জনআন্দোলন শুরু করতে পারেন, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলে রূপ নিতে পারে। এই আবহে বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে অন্নামালাই জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে নিজের ভাবনা তুলে ধরবেন এবং খোলামেলা আলোচনা করবেন।
এই ঘোষণার পর থেকেই জোরালো হয়েছে জল্পনা যে, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার অন্নামালাই বিজেপি ছাড়ার পর তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পরিকল্পনা প্রকাশ করতে চলেছেন।
উল্লেখ্য, কর্ণাটক ক্যাডারের প্রাক্তন আইপিএস অফিসার অন্নামালাই ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী-র আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২০ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি পদে নিযুক্ত হন এবং রাজ্যে দলের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, অন্নামালাই বর্তমানে তামিলনাড়ুর তরুণ নেতৃত্বকে চিহ্নিত, প্রশিক্ষিত ও গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি জনমুখী আন্দোলনের পরিকল্পনা করছেন। তাঁর পরিচালিত অলাভজনক সংস্থা”-কে কেন্দ্র করেই এই উদ্যোগ গড়ে উঠতে পারে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তামিলনাড়ুতে বিজেপির কৌশল নিয়ে দলের অভ্যন্তরে মতপার্থক্যই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। সূত্রের খবর, বিজেপি পুনরায় এআইএডিএমকের সঙ্গে জোটে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং অন্নামালাইকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরানোর পর থেকেই অসন্তোষ বাড়তে থাকে। অন্নামালাই নাকি তামিলনাড়ুতে বিজেপির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পথের পক্ষেই ছিলেন।
এছাড়াও, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছে বলে তিনি মনে করতেন। দলের জাতীয় স্তরে দায়িত্ব পাওয়ার আশা থাকলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় তিনি হতাশ ছিলেন বলেও সূত্রের দাবি। এমনকি বিজেপির প্রস্তাবিত রাজ্যসভা আসনের প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে জানা গেছে।
অন্নামালাইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



















