নয়াদিল্লি, ৩ জুন (আইএএনএস): যোগাসনকে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত ক্রীড়া হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে কাজ করছে ভারত। এই প্রচেষ্টার অন্যতম মুখ উদিত শেঠ মনে করেন, যোগাসনের ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র প্রতিযোগিতা বা পদকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পরিকাঠামো, বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব এবং বিশ্বমানের উপস্থাপনা গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
আইএএনএস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে যোগাসন ভারতের সভাপতি এবং বিশ্ব যোগাসন-এর সহ-সভাপতি উদিত শেঠ জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ-এর সমর্থন যোগাসনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন, যোগাসনের কথা যখন বলা হবে, তখন সেটিকে একটি ক্রীড়া হিসেবেই দেখতে হবে। এটিকে শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক কার্যকলাপ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। এটি আন্তর্জাতিক হতে হবে, শক্তিশালী ফেডারেশন কাঠামো থাকতে হবে, বিশ্বমানের ধারাভাষ্য থাকতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ সর্বাধিক করতে হবে।”
উদিত শেঠের মতে, এই স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি যোগাসনকে শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক বা স্বাস্থ্যচর্চার পরিসর থেকে বের করে এনে একটি প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে।
তিনি আরও জানান, সারা দেশে যোগাসনের প্রসারে এসএআই-এর বিভিন্ন কর্মসূচি এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
যোগাসন সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা ভাঙতে গিয়ে শেঠ বলেন, “প্রথমেই বুঝতে হবে, যোগ এবং যোগাসন এক জিনিস নয়।”
তাঁর ব্যাখ্যায়, যোগ একটি বিস্তৃত দর্শন, যার মধ্যে ধ্যান, প্রাণায়াম এবং নানা আধ্যাত্মিক অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, যোগাসন একটি কাঠামোবদ্ধ প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া, যেখানে নির্দিষ্ট নিয়ম ও স্কোরিং পদ্ধতির ভিত্তিতে আসন প্রদর্শনের মূল্যায়ন করা হয়।
বর্তমানে যোগাসনে নির্দিষ্ট বিচারব্যবস্থা, কঠিনতার স্তর, চ্যালেঞ্জ রাউন্ড, ইলেকট্রনিক স্কোরিং সিস্টেম এবং একাধিক প্রতিযোগিতা বিভাগ রয়েছে। ব্যক্তিগত, জুটি, রিদমিক ও আর্টিস্টিক বিভাগে প্রতিযোগীরা অংশ নেন।
উদিত শেঠ মনে করেন, আধুনিক ক্রীড়া জগতে শুধু অংশগ্রহণ যথেষ্ট নয়; দর্শকদের আকৃষ্ট করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর কথায়, “যদি দর্শক চ্যানেল বদলে দেন, তাহলে আমরা শেষ। তাই সম্প্রচারকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও ভাবতে হবে। কী ধরনের গল্প বলা হবে, কীভাবে আমাদের নিজস্ব নায়ক তৈরি হবে— যোগাসনেরও নিজস্ব শচীন তেন্ডুলকর বা ডেভিড বেকহ্যাম দরকার।”
এই লক্ষ্যেই লাইভ স্কোরিং, উন্নত গ্রাফিক্স, রিপ্লে প্রযুক্তি, অগমেন্টেড রিয়্যালিটি এবং ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি-র মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যোগাসন ভারত।
শেঠের মতে, ধারাভাষ্য বা কমেন্ট্রি এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাতেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ধারাভাষ্য বিশ্বমানের হতে হবে, যাতে দর্শকরা যেমন শিক্ষা পান, তেমনই বিনোদিতও হন।”
যোগাসনকে শুধু ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও ক্রীড়া ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সংগঠনটি।
উদিত শেঠ জানান, বিভিন্ন দেশের সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, কোচিং কাঠামো গঠন এবং আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
সাক্ষাৎকারের শেষে উদিত শেঠ বলেন, “যোগাসন বিশ্বের প্রতি ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া অবদান হয়ে উঠতে পারে।”
তাঁর মতে, বিশ্বের বহু শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদ ইতিমধ্যেই নমনীয়তা, পুনরুদ্ধার ক্ষমতা, ভারসাম্য এবং মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধির জন্য যোগচর্চা করছেন। ফলে যোগাসন এমন একটি ক্ষেত্র, যা ভারতের ঐতিহ্যকে আধুনিক ক্রীড়া সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করে বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচয় গড়ে তুলতে পারে।



















