কোচি, ১ জুন (আইএএনএস): বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং চাহিদার ওঠানামার মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের সামুদ্রিক খাদ্য (সিফুড) রফতানি পরিমাণ ও মূল্যের নিরিখে সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত মোট ১৯.৭২ লক্ষ মেট্রিক টন সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি করেছে, যার মোট মূল্য ৭৩,৮৯০ কোটি টাকা (৮.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এটি এই খাতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রফতানি।
এমপিইডিএ-র চেয়ারম্যান পি. জওহর জানান, বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা ও চাহিদার পরিবর্তন সত্ত্বেও এই রেকর্ড সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
রফতানির ক্ষেত্রে আগের মতোই হিমায়িত চিংড়ি (ফ্রোজেন শ্রিম্প) ভারতের সামুদ্রিক খাদ্য রফতানির প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। মোট রফতানি আয়ের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি এসেছে এই খাত থেকে।
ফ্রোজেন শ্রিম্প রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৪৯,০৩৮ কোটি টাকা (৫.৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা মোট সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি আয়ের ৬৬.৫ শতাংশ। এই সময়ে চিংড়ি রফতানির পরিমাণ বেড়ে ৭.৯৩ লক্ষ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।
চিংড়ির সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এরপর রয়েছে চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
মূল্যের নিরিখে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বৃহত্তম সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটি ভারত থেকে ২.৩৩ বিলিয়ন ডলারের সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি করেছে। তবে আগের বছরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির পরিমাণ ও মূল্য কিছুটা কমেছে, যা বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যচাপের প্রভাব বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের মোট সামুদ্রিক খাদ্য রফতানির ৯৩ শতাংশেরও বেশি ছিল ফ্রোজেন শ্রিম্প।
অন্যদিকে, পরিমাণের নিরিখে চীন ছিল ভারতের বৃহত্তম গন্তব্য। দেশটি ৪.৯ লক্ষ মেট্রিক টন সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি করেছে, যার মূল্য ১.৬১ বিলিয়ন ডলার।
মূল্যের নিরিখে তৃতীয় বৃহত্তম বাজার ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যেখানে রফতানির পরিমাণ ১.৫৯ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, যেখানে রফতানির মূল্য ১.৩৫ বিলিয়ন ডলার।
শীর্ষ ছয় রফতানি গন্তব্যের তালিকায় আরও রয়েছে জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে ফ্রোজেন ফিশ দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি বিভাগ হিসেবে ৬৪৪ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। পাশাপাশি শুকনো সামুদ্রিক খাদ্যের রফতানিতেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ফ্রোজেন স্কুইড এবং কাটলফিশ রফতানিও ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্য ভারতের সামুদ্রিক খাদ্য রফতানির বৈচিত্র্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্য সংযোজিত সামুদ্রিক পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির প্রতিফলন।
এছাড়া এই খাত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং মৎস্যচাষ, মাছ ধরা, প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানির সঙ্গে যুক্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি পরিচালনায় শীর্ষ তিন বন্দর ছিল বিশাখাপত্তনম বন্দর, জওহরলাল নেহরু বন্দর এবং কোচিন বন্দর।



















