শ্রীনগর, ১ জুন (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরে চলমান ‘নেশামুক্ত অভিযান’-এর প্রথম ৫০ দিনে ১,০১৮ জন অভিযুক্ত মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৩৪১ কেজি মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ২০০ কোটিরও বেশি টাকার মাদক-সংক্রান্ত সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে প্রশাসন।
সরকারি সূত্রের দাবি, ১১ এপ্রিল থেকে ২৯ মে পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে মোট ৯২৩টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং ১,০১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অধিকারিকদের মতে, এটি জম্মু-কাশ্মীরে এ পর্যন্ত পরিচালিত সবচেয়ে বড় মাদকবিরোধী অভিযানের অন্যতম।
অভিযানের সময় ৩৪১ কেজি মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ কেজি হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা। এছাড়াও ২৩,৭৫২টি সাইকোট্রপিক ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
অবৈধ মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিট-এনডিপিএস)-এর আওতায় ৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মাদক চক্রের আর্থিক উৎস বন্ধ করতে প্রশাসন ৬৩.৯৩ কোটি টাকা মূল্যের ৮৯টি স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত করেছে এবং ১৯.৭৭ কোটি টাকা মূল্যের ৬৩টি সম্পত্তি ভেঙে দিয়েছে। সব মিলিয়ে ৮৩ কোটিরও বেশি টাকার মাদক-সংক্রান্ত সম্পত্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রেও কড়া নজরদারি চালানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ১২০ জন কেমিস্ট ও ওষুধ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১৮টি লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত এবং দুটি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া ৬৬৮টি ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ১৩টি গাড়ির নিবন্ধন শংসাপত্র স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। মাদক-সংক্রান্ত মামলায় জড়িত ১২৪ জনের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার সুপারিশও করা হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে ১৬ লক্ষেরও বেশি সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এক কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন পরিষেবার আওতায় ৫৮,৬০৩ জন মাদকাসক্ত চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। স্বাস্থ্য, পুলিশ ও সমাজকল্যাণ দফতর পরিচালিত বিভিন্ন কেন্দ্রে বহু মানুষ কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের সুযোগও পেয়েছেন।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ৩,০৪৫ জন সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী ও চোরাকারবারিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৩৮৬ জন সন্দেহভাজনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের এক শীর্ষকর্তা জানান, এই অভিযান শুধু গ্রেফতার বা মাদক উদ্ধারেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মাদক ব্যবসা ও ‘নার্কো-টেররিজম’-এর পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়াই এর লক্ষ্য।
প্রশাসনের দাবি, মাদক পাচার ও হাওলা লেনদেন থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগাতে ব্যবহৃত হয়। সেই কারণেই মাদক চক্র, হাওলা নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা-এর নেতৃত্বে বিভিন্ন জেলায় মাদকবিরোধী পদযাত্রারও আয়োজন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রশাসনের মতে, চলমান এই অভিযান মাদক পাচার চক্রকে বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের একাধিক পথ দুর্বল করে দিয়েছে। আগামী মাসগুলিতেও মাদক পাচারকারী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
_______



















