নয়াদিল্লি/ক্যানবেরা, ১ জুন (আইএএনএস): ভারত ও অস্ট্রেলিয়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা রোডম্যাপ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং অস্ট্রেলিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশ সামুদ্রিক টহল বিমান ব্যবহার করে যৌথ সামুদ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সমুদ্রতলের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধির নতুন সুযোগ খুঁজে দেখবে। পাশাপাশি ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং অস্ট্রেলিয়ার মেরিটাইম বর্ডার কমান্ডের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
দুই মন্ত্রী ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপের পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ-এর যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় দেশ একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পক্ষে। আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষত ১৯৮২ সালের রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন সনদ-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল ও বাণিজ্যের গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ভারত ও অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে ভারত মহাসাগরীয় রিম অ্যাসোসিয়েশন-এর সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের যৌথ নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই মাসের শেষের দিকে চেন্নাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টারে যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধার মহড়া এবং টেবিল-টপ এক্সারসাইজ আয়োজন করবে দুই দেশ।
এছাড়া ২০২০ সালের পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা চুক্তির ভিত্তিতে সামরিক মহড়া ও অভিযানে কার্যগত সমন্বয় আরও বাড়ানোর বিষয়েও সম্মতি হয়েছে। একে অপরের ভূখণ্ড থেকে সামরিক বিমান মোতায়েন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা আরও গভীর করতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও পরিষেবা সরবরাহ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির কাজ শুরু করবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।
দুই দেশ প্রতিরক্ষা গবেষণা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। সেন্সর প্রযুক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ২০২৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড রিসার্চ সামিটে অংশগ্রহণের জন্য ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
সেনা, নৌ ও বায়ুসেনার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশ ২০২৬ ও ২০২৭ সালের বিভিন্ন যৌথ ও বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণের বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘এক্সারসাইজ মিলান’, ‘কাকাডু’, ‘পিচ ব্ল্যাক’ এবং ‘ট্যালিসম্যান স্যাবর’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মহড়া।
ভারত ও অস্ট্রেলিয়া চতুর্পাক্ষিক নিরাপত্তা সংলাপ-এর আওতায় সামুদ্রিক নজরদারি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি অভিন্ন অপারেশনাল চিত্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
______



















