আগরতলা, ১ জুন: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান না হওয়ায় আজ ত্রিপুরা আরবান প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (টিউডিএ)-র কার্যালয়ে বিক্ষোভে সামিল হলেন বর্ডার গোলচক্কর এলাকার লাইট হাউস আবাসন প্রকল্পের একাধিক গ্রাহক।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ২০২২ সালের মধ্যেই ফ্ল্যাট হস্তান্তরের আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রায় পাঁচ বছর কেটে গেলেও এখনও তারা নিজেদের ফ্ল্যাটের দখল পাননি। অনেকেই দুই থেকে তিন কিস্তিতে অর্থ জমা দিয়েছেন, কিন্তু প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীরগতির বলে অভিযোগ।
এক বিক্ষোভকারী জানান, নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করেছিলাম একটি স্থায়ী বাড়ির আশায়। কিন্তু আজ সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, টিউডিএ কর্তৃপক্ষ বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তাদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে হবে, অন্যথায় জমা নেওয়া অর্থ সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে।
আরেকজন উপভোক্তা বলেন, যদি ফ্ল্যাট দিতে না পারে, তাহলে আমাদের টাকা অবিলম্বে সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে। আর অপেক্ষা করার মতো পরিস্থিতিতে আমরা নেই।
জানা গেছে, টিউডিএ কর্তৃপক্ষ ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের আশ্বাস দিয়েছে। তবে এই প্রতিশ্রুতিতেও আস্থা রাখতে পারছেন না গ্রাহকরা। তাদের দাবি, বর্তমানে যে গতিতে নির্মাণকাজ চলছে, তাতে আগামী সাত-আট বছরেও ফ্ল্যাট পাওয়া অনিশ্চিত।
এদিন বেশ কয়েকজন গ্রাহক মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করবেন বলে আশা করছি।
দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তার কারণে প্রকল্পের গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডিসেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যেও যদি ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করা হয়, তাহলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন এবং সুদ-সহ টাকা ফেরতের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করবেন।
এক গ্রাহকের কথায়, আমাদের আর উপেক্ষা করা চলবে না। আমরা দ্রুত সমাধান চাই, আর সেটাই এখন সময়ের দাবি।



















