ভোপাল, ১ জুন (আইএএনএস): প্রবল বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৯৪ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার জেরে মধ্যপ্রদেশের একাধিক জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের অবসান ঘটেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) ভোপাল কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাজ্যের কিছু এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯৪ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গিয়েছে, যা চলতি মরশুমের অন্যতম শক্তিশালী প্রাক-বর্ষার আবহাওয়া বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মধ্য পাকিস্তানের উপর অবস্থানরত ঘূর্ণাবর্ত এবং রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ জুড়ে বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে এই আবহাওয়া পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় কমলা সতর্কতা (অরেঞ্জ অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে।
গত সপ্তাহের শেষদিকে খাজুরাহোর মতো এলাকায় তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। সেই চরম গরম থেকে বৃষ্টি স্বস্তি এনে দিলেও ঝোড়ো হাওয়ার তীব্রতা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯৪ কিলোমিটার বেগের ঝড়ো হাওয়ায় বহু গাছ উপড়ে পড়েছে, আধাপাকা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ভোপাল, ইন্দোর এবং জবলপুর-সহ শহরাঞ্চলেও বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে।
ভোপালে আকস্মিক বৃষ্টির ফলে নিচু এলাকায় জল জমে যায়। একই সঙ্গে তীব্র হাওয়ার কারণে বহিরাঙ্গন শ্রমিকদের কাজ এবং পরিবহণ পরিষেবাও ব্যাহত হয়।
আইএমডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অমরকণ্টকে ৬৮ মিলিমিটারের বেশি এবং ভৈঁসদেহিতে প্রায় ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে কৃষি বিশেষজ্ঞরা কৃষকদের সতর্ক করেছেন। তাঁদের মতে, খরিফ মরশুমের আগে মাটিতে আর্দ্রতা বৃদ্ধির জন্য এই বৃষ্টি উপকারী হলেও ঘণ্টায় ৯৪ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো হাওয়া মুগ ও আখের মতো গ্রীষ্মকালীন ফসলের ক্ষতি করতে পারে। ফসল ভেঙে পড়া বা নুয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
কৃষকদের জমিতে জলনিকাশি ব্যবস্থা পরীক্ষা করা এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ঝোড়ো হাওয়ার তীব্রতা কিছুটা কমলেও পূর্ব ও পশ্চিম মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন অংশে বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
বাসিন্দাদের বজ্রপাতের সময় ঘরের ভিতরে থাকার এবং উঁচু গাছ বা দুর্বল কাঠামোর নীচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
— আইএএনএস



















