আগরতলা, ১ জুন : শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সর্বভারতীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেস। সম্মেলনে নীতি আয়োগের ২০২৬ সালের রিপোর্টে উঠে আসা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কংগ্রেসের মুখপাত্র পার্থ আচার্য্য।
সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের মুখপাত্র পার্থ আচার্য বলেন, নীতি আয়োগের ২০২৬ সালের রিপোর্টে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, স্কুলছুটের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, গুণগত শিক্ষার মান নিম্নমুখী এবং অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ও স্মার্ট ক্লাসরুমের পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। শিক্ষক সংকটও ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পার্থ আচার্যের বক্তব্য, সরকার একদিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের দাবি করলেও বাস্তবে শিক্ষাকে ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্প চালুর সময় অভিভাবকদের কাছে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছিল, তার অধিকাংশই পূরণ করা হয়নি। একই সঙ্গে শিক্ষা অধিকার আইন, ২০০৯-এর কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি জানান, বিদ্যাজ্যোতি সহ সমস্ত সরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে বার্ষিক ফি ও অতিরিক্ত ফি আদায় অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও তিনি সর্বভারতীয় বিভিন্ন পরীক্ষা যেমন নিট, এসএসসি-জিডি, সিইউইটি, ইউপিএসসি এবং সিবিএসই-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এসব ঘটনার ফলে দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। তিনি ঘটনার প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে যুব কংগ্রেস সভাপতি নীল কমল সাহা রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নীতি আয়োগের ২০২৬ সালের রিপোর্টে ত্রিপুরার কর্মসংস্থান সংক্রান্ত দুর্বল অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে। তাঁর দাবি, দেশের মোট শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে ত্রিপুরার অবদান ০.১ শতাংশেরও কম, যা রাজ্যের শিল্প ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে উল্লেখযোগ্য শিল্পায়ন না হওয়ায় বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ফলে সরকারি চাকরিই অধিকাংশ বেকার যুবক-যুবতীর একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
বিশেষ করে শিক্ষা দপ্তরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গত সাত থেকে আট বছরে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক অবসরে গেলেও সেই শূন্যপদগুলির অধিকাংশ পূরণ করা হয়নি। বরং বহু পদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগপত্র না দেওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
নীল কমল সাহার দাবি, ২০২৪ সালের টেট-১ পরীক্ষায় ৩৬৮ জন এবং টেট-২ পরীক্ষায় ১,৪৮৮ জন প্রার্থী যোগ্যতা অর্জন করলেও এখনও পর্যন্ত তাঁরা নিয়োগপত্র পাননি। যদিও সরকার শিক্ষক নিয়োগকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বলে দাবি করছে, কিন্তু বাস্তবে টেট উত্তীর্ণ প্রায় দুই হাজার চাকরিপ্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বছরে দু’বার টেট পরীক্ষা নেওয়ার প্রচলিত ব্যবস্থাও বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজ্যের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি উন্নয়নে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায়। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে ফি আদায় বন্ধ, শিক্ষক নিয়োগে গতি আনা এবং জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হয়।



















