নয়াদিল্লি, ১ জুন (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই বলে দাবি করলেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলেই এখন দলের নেতাদের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়েছে।
সোমবার এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে খগেন মুর্মু বলেন, বিজেপি কখনও এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং এমন কর্মকাণ্ডকে সমর্থনও করে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক হিংসা ও ভয় দেখানোর রাজনীতি করেছে।
তিনি বলেন, “এ ধরনের নাটক বিজেপি করে না, কোনও দিনও করেনি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস গত ১৫ বছর ধরে এই ধরনের রাজনীতি করেছে এবং সাধারণ মানুষের উপরও অত্যাচার চালিয়েছে। তাই আজ তাদের নিজেদের কাজের ফল ভোগ করতে হচ্ছে।”
খগেন মুর্মুর আরও দাবি, দুর্নীতি, হিংসা এবং নানা অনিয়মের কারণে তৃণমূলের বহু নেতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তাঁর কথায়, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি যে এদের অনেকেই দুর্নীতি, হিংসা এবং নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। জনসাধারণের সম্পদ লুট করা হয়েছে। মহিলাদের উপর অত্যাচার, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। সেই কারণেই আজ কোনও তৃণমূল নেতা জবাবদিহি এড়াতে পারবেন না। সংবাদমাধ্যম এখন এসব বিষয় সামনে আনছে এবং মানুষ তার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এমনকি তৃণমূলের কর্মীরাও বহু সময় দুষ্কর্মে জড়িত ছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে যে এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। “যদি দলের সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি এ ধরনের অসদাচরণ বা দুষ্কর্মে জড়িত বলে প্রমাণিত হন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।
এদিকে, বিজেপির আরও কয়েকজন নেতার মন্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “কী ঘটেছে সবাই দেখেছেন। কেউ তাঁকে মারেনি বা ধাক্কাও দেয়নি, সবটাই নাটক। সংসদেও আমি এমন আচরণ দেখেছি। অনেকেই তাঁর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। এখন যা দেখা যাচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত।”
অন্যদিকে, বিহারের মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদবও পশ্চিমবঙ্গে শাসক দলের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষকেই এই ধরনের ঘটনার কারণ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “তৃণমূল নেতাদের নানা অপকর্ম, অত্যাচার এবং দুর্নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভ থেকেই কেউ কেউ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও একইভাবে জনরোষের মুখে পড়ছেন।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হামলার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাঁর কনভয়ের দিকে পাথর, ডিম ও জুতো ছোড়া হয়। ধস্তাধস্তির সময় তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় এবং চশমাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।



















