দেহরাদুন, ১ জুন (আইএএনএস): উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় সোমবার সকালে ঘটে যাওয়া পৃথক দুটি বাস দুর্ঘটনায় এক মহিলা নিহত হয়েছেন এবং ২৬ জনেরও বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তও শুরু হয়েছে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে হরিদ্বারের নগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত সপ্তঋষি এলাকায়। সেখানে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে এক মহিলার মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২৬ জন আহত হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্থানের একদল তীর্থযাত্রী ডাবল-ডেকার বাসে করে হরিদ্বারে এসেছিলেন। গঙ্গায় পবিত্র স্নান সেরে তাঁরা বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় সপ্তঋষি এলাকায় বাসটি পিছনে নেওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ফলে বাসটি রাস্তার ধারে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার সময় বাসে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। বাস উল্টে যাওয়ার পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভিতর থেকে সাহায্যের আর্তনাদ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরে ক্রেনের সাহায্যে উল্টে যাওয়া বাসটিকে সরানোর কাজ শুরু হয়। মৃত মহিলার পরিচয় জানা গিয়েছে। তিনি রাজস্থানের নাগৌর জেলার বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সি পুষ্পকওয়ার, ভানওয়ার সিংয়ের স্ত্রী।
পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিকুঞ্জের কাছে রাস্তার ধারে বাসটি পিছনে নেওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এদিকে উল্টে থাকা বাসটিকে এড়াতে গিয়ে একটি ডাম্পার ট্রাকের চালকও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের একটি ধাবায় ধাক্কা মারেন। একটি পার্ক করা বোলেরো গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এই দ্বিতীয় সংঘর্ষে আর কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে, তেহরি জেলায় জৌলাঙ্গি গ্রামের কাছে আরেকটি বাস উল্টে গেলে বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। বাসটি গঙ্গোত্রী থেকে কেদারনাথের উদ্দেশে যাচ্ছিল। কাণ্ডিখাল থেকে চম্বার দিকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসটিতে চালক ও কন্ডাক্টর-সহ প্রায় ২২ জন ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়।
তেহরির দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নেই। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
দুটি ঘটনাতেই পুলিশ পৃথক তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানার চেষ্টা করছে।
— আইএএনএস



















