নয়াদিল্লি, ১ জুন (আইএএনএস): ভারত-ওমান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সোমবার থেকে কার্যকর হওয়ার পর কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেছেন, এই চুক্তি ভারতের অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য সুফল বয়ে আনবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র ‘সমৃদ্ধির বৈশ্বিক পথ নির্মাণ’-এর লক্ষ্যে এই চুক্তি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী, কারিগর, মহিলা, কৃষক, মৎস্যজীবী এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই)-র জন্য নতুন বাজার উন্মুক্ত হবে, রফতানি বৃদ্ধি পাবে, বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওমানে ভারতের ৯৮ শতাংশ শুল্ক লাইনের পণ্যের জন্য ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা মিলবে, যা ভারতের মোট রফতানির ৯৯.৩৮ শতাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। সিইপিএ-পূর্ব ব্যবস্থায় এই সুবিধা ছিল মাত্র ১৫.৩ শতাংশ রফতানির ক্ষেত্রে।
পীযূষ গয়াল বলেন, বর্তমানে ওমানে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্কের আওতায় থাকা প্রায় ৩.৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ভারতীয় পণ্য এখন আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
তিনি জানান, লোহা ও ইস্পাত, বস্ত্র, চামড়া, অটো যন্ত্রাংশ এবং শিল্প সরঞ্জামের মতো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পনির্ভর ক্ষেত্রগুলি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বড় অর্ডার পেতে পারে। এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ওমানে ভারতীয় বস্ত্র রফতানি বৃদ্ধি পেলে তিরুপুর, সুরাট, লুধিয়ানা, পানিপথ, কোয়েম্বাটুর, কারুর, মোরাদাবাদ, জয়পুর এবং আহমেদাবাদের মতো প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে শিল্পচর্চা ও কর্মসংস্থান বাড়বে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তাঁতি ও কারিগররাও আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধির সুফল পাবেন।
রত্ন ও গয়না, বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, ক্রীড়াসামগ্রী, প্লাস্টিক, আসবাবপত্র, কৃষিজাত পণ্য, প্রকৌশল সামগ্রী, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অটোমোবাইল-সহ শ্রমনির্ভর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ খাতে সম্পূর্ণ শুল্ক প্রত্যাহারের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারত ওমান থেকে আমদানি হওয়া ৭৭.৭৯ শতাংশ শুল্ক লাইনের পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক উদারীকরণ করছে, যা মূল্য অনুযায়ী ভারতের মোট আমদানির ৯৪.৮১ শতাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। ভারতের জন্য সংবেদনশীল হলেও ওমানের রফতানি স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক-হার কোটাভিত্তিক (টিআরকিউ) সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
ভারতের স্বার্থ রক্ষার জন্য দুগ্ধজাত পণ্য, চা, কফি, রাবার, তামাক, সোনা ও রুপোর বুলিয়ন, গয়না, জুতো, ক্রীড়াসামগ্রী এবং বিভিন্ন ধাতব স্ক্র্যাপ-সহ একাধিক সংবেদনশীল পণ্যকে ছাড়ের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
______



















