নয়াদিল্লি, ২১ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে চলমান গবাদি পশু সংকটের আবহে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানালেন সাজিদ রশিদি। একইসঙ্গে সমাজ ও রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক ভাষা ব্যবহারেরও সমালোচনা করেন তিনি।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সর্বভারতীয় ইমাম সমিতি-এর সভাপতি মাওলানা সাজিদ রশিদি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বহু মুসলিম স্বেচ্ছায় গরু কেনা থেকে বিরত থেকেছেন, হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানোর উদ্দেশ্যে।
তিনি বলেন, “দেখা গেছে বাংলায় মুসলিমরা গরু কেনেননি। তাঁরা বলেছেন, ‘হিন্দুরা গরুকে মা মনে করেন, আমরা তাঁদের বিশ্বাসকে সম্মান করি।’ এর মাধ্যমে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।”
রশিদি আরও বলেন, হিন্দু সমাজ যদি ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে গরুকে জাতীয় পশু হিসেবেও ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে। তবে ধর্মের অপব্যবহার করে বিভাজন ও হিংসা ছড়ানোর বিরুদ্ধে তিনি সতর্ক করেন।
তাঁর কথায়, “সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন ধর্মকে ব্যবহার করে দাঙ্গা উসকে দেওয়া হয়, ধর্মের নামে মুসলিমদের আক্রমণ করা হয় এবং দেশে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হয়।”
পশ্চিমবঙ্গের গবাদি পশু ব্যবসায়ী ও কৃষকদের অর্থনৈতিক দুর্দশার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, বহু হিন্দু পশুপালক ও ব্যবসায়ী আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
তিনি বলেন, “বাংলায় বহু হিন্দু পশুপালক রাস্তায় নেমে তাঁদের কষ্টের কথা জানাচ্ছেন। গরু বিক্রি না হওয়ায় ব্যবসা ভেঙে পড়েছে এবং ঋণের বোঝা বাড়ছে।”
এছাড়াও তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই পরিস্থিতিতে কেন বজরং দল-এর মতো দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলি ক্ষতিগ্রস্ত পশুপালকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে ‘দেশদ্রোহী’ বলে মন্তব্য করার প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া জানান রশিদি।
তিনি বলেন, “এখন রাজনীতির মান অনেক নিচে নেমে গেছে। ‘জার্সি গরু’, ‘দেশদ্রোহী’, ‘ভোট চোর’-এর মতো শব্দ এখন রাজনীতিতে সাধারণ হয়ে উঠেছে। রাজনীতির মান ও চেতনার অবনতি আমরা প্রত্যক্ষ করছি।”
তাঁর মতে, “দেশদ্রোহী” বা “জার্সি গরু”-র মতো শব্দ শুধু রাজনীতিতে নয়, সমাজেও গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।



















