ঢাকা, ২০ মে (আইএএনএস): বাংলাদেশে ২০২৬ সালজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের উপর লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ রাজনৈতিক হিংসা ও নৃশংসতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সম্প্রতি কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং তাদের ছাত্র সংগঠন জাতিয়াতাবাদী ছাত্র দল-এর কর্মীদের হামলা থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে ৫৫ বছর বয়সী সাইদা বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
দলের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক হিংসার একটি বড় চিত্রের অংশ।
আওয়ামী লীগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “একজন মা নিজের ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকেই প্রাণ দিতে হল। কারণ তাঁর ৩২ বছর বয়সী ছেলে এস এম ইমরানের ‘অপরাধ’ ছিল একটি রাজনৈতিক স্লোগান ‘জয় বাংলা’র সঙ্গে যুক্ত থাকা।”
দলের অভিযোগ, বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত কেউ নিরাপদ নন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হোক বা না হোক। বিভিন্ন জেলায় হামলা ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের বক্তব্য, বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের সমর্থকদের একাংশ এই হিংসাকে “আগের সরকারের প্রতি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া” বলে ব্যাখ্যা করছে। তবে স্বাধীন বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা হিসেবে দেখছেন।
দলটি আরও দাবি করেছে, রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক কারাগারে আটক রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলি সতর্ক করেছে।
আওয়ামী লীগের মতে, হেফাজতে থাকা প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কারাগারে আটক ব্যক্তিদের মৃত্যু জবাবদিহির সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত দেয়।
এছাড়াও দলটির অভিযোগ, গ্রেফতার নেতাদের আদালতে আনার সময় আদালত চত্বরে জনতার হামলার ঘটনাও ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই তাঁদের মারধর করা হচ্ছে এবং পুলিশ পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
বিশ্ব নেতাদের এই বিষয়ে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ বলেছে, এই ধরনের ঘটনাকে শুধুমাত্র দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়া বিপজ্জনক হবে। দলের বক্তব্য, “মানবাধিকার সবার জন্য সমান, কোনও রাজনৈতিক দল ক্ষমতা হারালেই তা শেষ হয়ে যায় না।”
______


















