হায়দরাবাদ, ১৯ মে (আইএএনএস): তেলেঙ্গানার দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি) মঙ্গলবার হায়দরাবাদে পরিচালিত একাধিক অভিযানে হায়দরাবাদ মেট্রো ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ বোর্ডের (এইচএমডব্লিউএসএসবি) এক আধিকারিকের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জায়গা থেকে ১.১০ কোটিরও বেশি নগদ অর্থ, প্রায় এক কেজি সোনার গয়না এবং একাধিক সম্পত্তির নথি উদ্ধার করেছে।
অভিযুক্ত আধিকারিক এস. এল. কুমার, যিনি এইচএমডব্লিউএসএসবি-র রেড হিলস শাখার জেনারেল ম্যানেজার পদে কর্মরত। তাঁর পরিচিত আয় উৎসের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।
দুর্নীতি দমন শাখার এক ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি)-এর নেতৃত্বে আটটি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। সূত্রের খবর, অভিযানে ১.১০ কোটি টাকা নগদ, প্রায় এক কেজি সোনার গয়না, ২.৫ কেজি রুপোর সামগ্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তির নথি উদ্ধার হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে আধিকারিকের প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিস মিলেছে বলে সন্দেহ করছে এসিবি। এর মধ্যে রয়েছে হায়দরাবাদের বিভিন্ন গেটেড কমিউনিটিতে তিনটি ফ্ল্যাট, ছয়টি খোলা প্লট এবং নিজামাবাদ জেলায় তিন একর কৃষিজমি। এছাড়াও তাঁর মালিকানাধীন একাধিক গাড়িরও সন্ধান পেয়েছে তদন্তকারীরা।
মঙ্গলবার ভোর থেকে কুমারের বাড়ি এবং তাঁর আত্মীয়দের সঙ্গে যুক্ত হায়দরাবাদ, রঙ্গারেড্ডি ও নিজামাবাদ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু হয়। মল্লাপুরে তাঁর বাসভবনে নগদ অর্থ গণনা, সোনা-রুপোর সামগ্রী সিল করা এবং বিভিন্ন সম্পত্তির নথি খতিয়ে দেখতে দেখা যায় তদন্তকারীদের।
বর্তমানে এস. এল. কুমারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এসিবি। তাঁর ব্যাংক লকারগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, তাঁর সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সন্ধ্যার মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরেও তেলেঙ্গানা পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযান চালিয়ে ১০০ কোটিরও বেশি মূল্যের সম্পত্তির হদিস পেয়েছিল এসিএইচ । মহবুবনগরের ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট কমিশনার মুড কিশানের বিরুদ্ধে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তির মামলা দায়ের হয়েছিল। যদিও নথিভুক্ত সম্পত্তির মূল্য ছিল ১২.৭২ কোটি টাকা, তবে বাজারমূল্য ১০০ কোটিরও বেশি বলে অনুমান করা হয়েছিল।



















