কাঠালিয়া, ১৩ মে : কাঠালিয়া ব্লকের ভবানীপুর এলাকায় এক গৃহবধূর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত গৃহবধূর নাম জয়িতা সরকার (২৩)। ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরকে আটক করেছে যাত্রাপুর থানার পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে স্বামী বিপদ সরকার (৩৫), শাশুড়ি ঝনা সরকার (৫৪) এবং শ্বশুর পরিমল সরকারকে। মঙ্গলবার ভবানীপুরে তাদের বাড়ি থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিয়ের পর থেকেই জয়িতার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হত। কর্মসূত্রে স্বামী চেন্নাইয়ে থাকলেও বাড়িতে ফিরলেই স্ত্রীর উপর অত্যাচার করতেন বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও নির্যাতনের জেরে জয়িতা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এরই মধ্যে গত রবিবার নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই গৃহবধূ। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, বিয়ের পাঁচ বছরের মধ্যে জয়িতা এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের মা হয়েছিলেন। মায়ের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে এখনও সম্পূর্ণ অজ্ঞ দুই শিশু। বর্তমানে দিদিমার কাছেই তাদের সময় কাটছে।
বুধবার সংবাদমাধ্যমকে যাত্রাপুর থানার ওসি জানান, একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় অত্যন্ত বিরল এবং মর্মান্তিক।



















