নয়াদিল্লি, ১৩ মে (আইএএনএস) পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হওয়ায় জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যের মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসনিক কর্তারা একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান মেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী বুধবার নিজেদের বাসভবন থেকে অনেক ছোট কনভয় নিয়ে বের হন।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও শক্তি সঞ্চয়কারী অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশ সরকার সরকারি কনভয়ে ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ভার্চুয়াল বৈঠক এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম ব্যবস্থাকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সপ্তাহে একদিন ‘নো ভেহিকল ডে’ পালনেরও আবেদন জানিয়েছেন।
এছাড়াও বিদ্যুৎ ও ভোজ্যতেলের ব্যবহার কমানো, স্থানীয় পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক কৃষিকাজ এবং ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উপরও জোর দেন তিনি।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নিজের সরকারি কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ১৩ থেকে কমিয়ে ৮ করেছেন। রাজ্য সরকার যানবাহনের শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে এবং মন্ত্রী-আমলাদের অপ্রয়োজনীয় গাড়ি ব্যবহার এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি কাজে ন্যূনতম সংখ্যক গাড়ি ব্যবহার করা হবে। মন্ত্রী, বিধায়ক এবং সরকারি আধিকারিকদের কারপুলিং ও গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
।
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কনভয়ে গাড়ির ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নিরাপত্তার জন্য অপ্রয়োজনীয় গাড়ি মোতায়েন না করার কথাও বলা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী-এর দফতরের পূর্বানুমতি ছাড়া সরকারি বিমান ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশ জারি হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক মুম্বই থেকে চিপলুন পর্যন্ত ট্রেনে সফর করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও জ্বালানি সাশ্রয়ের স্বার্থে লোকাল ট্রেনে যাতায়াত চালিয়ে যাবেন।
গুজরাটের রাজ্যপাল জানিয়েছেন, তিনি রাজ্যের মধ্যে সফরের জন্য হেলিকপ্টার বা বিমান নয়, বরং ট্রেন ও সরকারি বাস ব্যবহার করবেন। পাশাপাশি সরকারি কনভয়ের আকারও ছোট করা হবে। গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর কমানোর আহ্বানের পর নিজের নির্ধারিত আমেরিকা সফর বাতিল করেছেন।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহার শুরু করেছেন। উপমুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি নিজের ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছেন এবং শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সরকারি সফরেই অংশ নেবেন।
বিহারের মন্ত্রী এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মুম্বইয়ের বিধান ভবন থেকে বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্স পর্যন্ত মেট্রোয় সফর করেন।
বিশ্ব রাজনীতির ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আবহে জ্বালানি সরবরাহ ও শক্তি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বানে দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলের এই সাড়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


















